সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

মানসম্মত হাইব্রিড বীজ উৎপাদনে সার্কের আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ ভুটানে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৯ পিএম

শেয়ার করুন:

মানসম্মত হাইব্রিড বীজ উৎপাদনে সার্কের আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ ভুটানে
ছবি: সংগৃহীত

মানসম্মত হাইব্রিড বীজ উৎপাদনে কারিগরি সক্ষমতা বাড়ানো এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে কৃষি সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে ভুটানে তিন দিনব্যাপী আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) ভুটানের ইউসিপাংয়ে ন্যাশনাল সেন্টার ফর অর্গানিক এগ্রিকালচারে এ প্রশিক্ষণ শুরু হয়। ‘সার্ক সদস্য দেশগুলোর জন্য সবজির হাইব্রিড বীজ উৎপাদন’ শীর্ষক প্রশিক্ষণটি চলবে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত।

ভুটানের কৃষি ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কৃষি বিভাগ এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে। এতে সহযোগিতা করছে ঢাকার সার্ক কৃষি কেন্দ্র।

প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভুটানের কৃষি ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী লিয়নপো ইয়োনতেন ফুন্টশো। বিশেষ অতিথি ছিলেন সার্ক সচিবালয়ের পরিচালক তানভীর আহমদ তরফদার।

অনুষ্ঠানে ভুটানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মালেকা পারভীন, ভুটানে নিযুক্ত ভারতের দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি নেহা যাদব এবং ভুটানের পররাষ্ট্র ও বৈদেশিক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বহুপক্ষীয় বিষয়ক বিভাগের মহাপরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

টমেটো-মরিচের হাইব্রিড বীজ উৎপাদনে বিশেষ গুরুত্ব

প্রশিক্ষণে ভুটানের কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সার্কভুক্ত বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ ও প্রশিক্ষণার্থীরা অংশ নিচ্ছেন। ভুটান থেকে প্রায় ৩০ জন গবেষক সরাসরি প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধিরা ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়েছেন।

প্রশিক্ষণে কারিগরি বক্তৃতার পাশাপাশি ব্যবহারিক অনুশীলন, গবেষণাগার ও মাঠ প্রদর্শনী এবং দলীয় শিক্ষার আয়োজন রাখা হয়েছে। বিশেষভাবে টমেটো ও মরিচের হাইব্রিড বীজ উৎপাদনের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

এতে মাতৃগাছ ব্যবস্থাপনা, পুংকেশর অপসারণ, পরাগায়ন, জাতের জিনগত বিশুদ্ধতা, বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ এবং বীজের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।

খাদ্যনিরাপত্তায় উন্নত বীজ প্রযুক্তির ওপর জোর

উদ্বোধনী বক্তব্যে ভুটানের কৃষি ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ইয়োনতেন ফুন্টশো কৃষি উৎপাদন বাড়াতে উদ্ভিদ প্রজনন, হাইব্রিড শক্তি ও মানসম্মত বীজব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, রোগবালাই ও কীটপতঙ্গের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত বীজ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বীজ প্রযুক্তি, গবেষণা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগের সুফল কৃষকের কাছে পৌঁছানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। উন্নত জাত, সহজলভ্য প্রযুক্তি এবং নির্ভরযোগ্য বীজ সরবরাহব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষকের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর কথাও বলেন ভুটানের কৃষিমন্ত্রী।

আয়োজকেরা বলছেন, হাইব্রিড বীজ উৎপাদনে আঞ্চলিক সক্ষমতা বাড়ানো গেলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে মানসম্মত বীজের প্রাপ্যতা বাড়বে। একই সঙ্গে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় বীজব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।

এমআর/এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর