রোববার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

কাদের বলা হবে সাংবাদিক, স্পষ্ট সংজ্ঞা চায় সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম

শেয়ার করুন:

কাদের বলা হবে সাংবাদিক, স্পষ্ট সংজ্ঞা চায় সরকার
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী

কারা সাংবাদিক এবং কাদের সাংবাদিক হিসেবে বিবেচনা করা হবে, সেই বিষয়ে একটি স্পষ্ট সংজ্ঞা বা নীতিমালা তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়ের ব্যবহার প্রকৃত সাংবাদিকদের পাশাপাশি জনগণ ও গণতন্ত্রের জন্যও হুমকি হয়ে উঠছে বলে মনে করেন তিনি। এ বিষয়ে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর কাছ থেকে সম্মিলিত প্রস্তাবও চেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

রোববার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) নির্বাহী কমিটির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় ও পেশাগত সংজ্ঞা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। কারা সাংবাদিক, কাদের সাংবাদিক হিসেবে বিবেচনা করা হবে; এসব বিষয়ে স্পষ্টতা থাকা দরকার। বিশেষ করে অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ভুয়া সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার প্রবণতা প্রকৃত সাংবাদিকদের জন্য প্রতিনিয়ত হুমকি তৈরি করছে।

এ সমস্যা শুধু সাংবাদিকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড জনগণ ও গণতন্ত্রের জন্যও হুমকি। বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক সংগঠনগুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সম্মিলিত প্রস্তাব দিলে সরকার তা বিবেচনা করবে।

মতবিনিময়ে প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়েও সাংবাদিকদের উদ্বেগের বিষয়টি উঠে আসে। তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ কিংবা সাংবাদিকদের লেখার স্বাধীনতা খর্ব করার জন্য এ আইন করা হচ্ছে না। জনগণ ও সাংবাদিকদের সাইবার জগতে নিরাপদ রাখাই এর উদ্দেশ্য।

তিনি আরও বলেন, সাইবার সিকিউরিটি শুধুমাত্র কাউকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য করা হচ্ছে বিষয়টি এমন নয়। জনগণকে নিরাপদ রাখার জন্যই সাইবার সুরক্ষা প্রয়োজন।

সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে ইতোমধ্যে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে জানিয়ে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ভবিষ্যতেও তাদের মতামত নেওয়া হবে। সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। গণমাধ্যম কীভাবে চলবে, সেই বিষয়ে সরকার হস্তক্ষেপ করছে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না।

গণমাধ্যমের জন্য আইনে বিশেষ সুরক্ষা রাখার একটি প্রস্তাবও সরকার বিবেচনা করছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো পত্রিকা, টেলিভিশন চ্যানেল বা নিবন্ধিত অনলাইন পোর্টালে ভুলক্রমে যদি এমন কিছু প্রকাশিত হয়, যা সাইবার সুরক্ষা আইনের ব্যত্যয় ঘটায়; তবে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক বা গণমাধ্যমকে আইনের আওতায় আনার আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আমরা কিন্তু এটা বিবেচনা করছি। বিষয়টি কীভাবে আইনে অন্তর্ভুক্ত করা যায় এবং এর ভাষা কেমন হবে, সেসব বিষয় আমরা বিবেচনা করছি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে মানুষকে হয়রানি ও হেনস্তার বিষয় তুলে ধরেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব ঘটনায় কেউ কেউ আত্মহত্যাপ্রবণ পর্যায়েও চলে যাচ্ছেন। আবার সাংবাদিকদের নাম ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ও গুজব ছড়ানো হচ্ছে। তাই সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সাংবাদিকদেরও নিরাপদ রাখা প্রয়োজন।

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকদের লেখা বন্ধ করা কিংবা সরকারের পক্ষে লেখানোর জন্য সাইবার সুরক্ষা আইন করা হচ্ছে না। সাংবাদিকরা যাতে নিরাপদ পরিবেশে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেটিও সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

মতবিনিময় শেষে সাংবাদিক নেতাদের দাবি ও প্রস্তাবগুলো লিখিতভাবে দেওয়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। লিখিত প্রস্তাব পাওয়া গেলে সেগুলো পর্যালোচনা করে পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সহজ হবে বলে জানান তিনি।

এমএইচ/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর