রোববার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

‘পেশার কারণে নয়, সুনির্দিষ্ট অপরাধেই সাংবাদিকদের আসামি করা হয়েছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক,
প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম

শেয়ার করুন:

‘পেশার কারণে নয়, সুনির্দিষ্ট অপরাধেই সাংবাদিকদের আসামি করা হয়েছে’
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর জি এইচ তামিম জানিয়েছেন, জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাংবাদিকদের পেশার কারণে নয়, বরং ‘সুনির্দিষ্ট অপরাধের’ প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় আসামি করা হচ্ছে। 

একইসঙ্গে গ্রেফতার থাকা আমির হোসেন আমু, দীপু মনিসহ সাবেক হেভিওয়েটদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে এবং শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান প্রমিকিউটর জি এইচ তামিম। 

সংবাদকর্মীদের আসামি করার বিষয়ে তামিম বলেন, এখানে যারা আসামি হয়ে আসছেন, তাদের প্রত্যেকেরই একটি পেশা থাকতে পারে। তবে আসামি হওয়ার ক্ষেত্রে পেশা কোনো বিবেচ্য বিষয় নয়। ক্রিমিনাল অফেন্সের (ফৌজদারি অপরাধ) তদন্তে প্রাথমিকভাবে যাদের বিরুদ্ধে সত্যতা পাওয়া গিয়েছে, তাদেরকেই মানবতাবিরোধী অপরাধের আসামি করা হয়েছে। এখানে তারা সাংবাদিক পরিচয়ে আসেননি।

এক্ষেত্রে উদাহরণ টানতে গিয়ে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতিও আসামি হয়েছেন। তাকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে আইন অমান্য করার কারণে আসামি করা হয়েছে। ঠিক একইভাবে এখানে যাদের আনা হয়েছে, তাদের পরিচয় সাংবাদিক হতে পারে, কিন্তু তাদের কেবলই একজন ‘অভিযুক্ত’ হিসেবে আনা হয়েছে।

গণঅভ্যুত্থানের সময়কার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে এই প্রসিকিউটর বলেন, যখন সারা দেশে ম্যাসাকার (গণহত্যা) চলছে, তখন সাংবাদিকরা দলবদ্ধভাবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে বলেছেন—আপনি যা করছেন তা চালিয়ে যান, আমরা আপনার সাথে আছি। আমরা দেখেছি, তৎকালীন সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া সঠিক খবরকে ভুলভাবে প্রচার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে।

তবে সব সাংবাদিককে ঢালাওভাবে আসামি করা হচ্ছে না বলেও স্পষ্ট করেছে প্রসিকিউশন। এর ব্যাখ্যায় বলা হয়, আমরা ইতিমধ্যে প্রমাণ পেয়েছি যে, তৎকালীন সরকার সাংবাদিকদের মিথ্যা খবর প্রচার করতে বাধ্য করেছিল। এজন্য সব সাংবাদিককে আমরা আসামি করিনি। তবে এরপরও যেসব সাংবাদিক অতিউৎসাহী হয়ে মিথ্যা খবর প্রচার করেছেন বা সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা দিয়েছেন, কেবল তাদের বিরুদ্ধেই সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা হয়েছে।

অভিযুক্তরা ন্যায়বিচার পাবেন জানিয়ে বলা হয়, তাদেরকে কেবল বিচারে সোপর্দ করা হচ্ছে। তারা আইনজীবী নিয়োগ করে ট্রায়াল ফেস করবেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তারা খালাস পাবেন।

আমু-দীপু মনিদের ফরমাল চার্জ শিগগিরই

আমির হোসেন আমুসহ গ্রেপ্তারকৃত আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে এখনও ফরমাল চার্জ না দেওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেছে প্রসিকিউশন।

চিফ প্রসিকিউটর ছুটিতে থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে বলা হয়, এই আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন আমরা হাতে পেয়েছি, ফরমাল চার্জও প্রায় প্রস্তুত করে ফেলেছি। খুব শিগগিরই হয় চিফ প্রসিকিউটরের অনুমতি সাপেক্ষে আমরা ফরমাল চার্জ দাখিল করব, অথবা তিনি ছুটি থেকে ফিরলেই দাখিল হবে।

গ্রেফতার থাকা আমির হোসেন আমু, দীপু মনি, ফারুক খান, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীসহ অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ইতিমধ্যে প্রসিকিউশনের হাতে পৌঁছেছে বলেও জানানো হয়।

আরএনবি/এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর