রোববার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

৩ মাসের বকেয়া পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা, হিসাব শুরু কাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম

শেয়ার করুন:

৩ মাসের বকেয়া পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা, হিসাব শুরু কাল
ছবি: সংগৃহীত

নতুন পে স্কেল কার্যকরের পর সরকারি চাকরিজীবীদের সবচেয়ে বড় আগ্রহ এখন বর্ধিত বেতন ও বকেয়া অর্থ নিয়ে। নতুন কাঠামোতে বেতন নির্ধারণ কার্যক্রম বা পে-ফিক্সেশন শেষ হওয়ার পর প্রায় তিন মাসের এরিয়ার (বকেয়া) একসঙ্গে পাবেন তারা।

এ কাজ শুরু হবে আগামীকাল সোমবার থেকে। কাজটি ২০ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করতে বলেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। অর্থ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন নির্ধারণ হবে আইবাস প্লাস প্লাসের পে ফিক্সেশন মডিউলে। চাকরিজীবীরা এই পোর্টালে প্রবেশ করে নিজেদের চাকরিসংক্রান্ত তথ্য দেবেন। 

প্রথমে দিতে হবে নিজেদের পরিচয়। এর মধ্যে থাকবে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, জন্মতারিখ, বর্তমান পদ ও গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং বর্তমান মূল বেতন। আগের বেতন নির্ধারণের তথ্যও মিলিয়ে দেখতে হবে।

নতুন কাঠামোতে কার মূল বেতন কত হবে, তা বেতন নির্ধারণের মাধ্যমে ঠিক হবে। বেতন নির্ধারণের বিষয়টি সরকারি চাকরিজীবীদের কাছে পে ফিক্সেশন হিসেবে পরিচিত। নতুন ও আগের বেতনের পার্থক্য এবং কার্যকর তারিখ বিবেচনায় নিয়ে বকেয়া হিসাব করতে হবে।

অর্থ বিভাগের সূত্র বলছে, বেতন নির্ধারণ শেষ হওয়ার পর তিন মাসের এরিয়ার বা বকেয়া একসঙ্গে দেবে সরকার। তবে সবার বকেয়া সমান হবে না। গ্রেড, বর্তমান মূল বেতন, নতুন কাঠামোতে নির্ধারিত বেতন এবং বেতন কার্যকর হওয়ার তারিখের ওপর বকেয়ার পরিমাণ নির্ভর করবে।

সূত্রগুলো বলছে, ৫ থেকে ২০ অক্টোবরের বেতন নির্ধারণে বর্তমান বেতনের পাশাপাশি আগের পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড এবং বেতন নির্ধারণের ইতিহাসও ঠিকভাবে যাচাই করতে হবে। এসব তথ্য ঠিক থাকলেই নতুন বেতন ও বকেয়া পাওনার হিসাব সঠিকভাবে করা সম্ভব হবে।

কারও পদোন্নতি, বদলি, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড হয়ে থাকলে সেসব তথ্যও দিতে হবে। এসব তথ্যের পক্ষে থাকা অফিস আদেশ ও প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখতে হবে। বিশেষ করে নাম, এনআইডি, জন্মতারিখ, পদবি, গ্রেড ও বেতনসংক্রান্ত তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে দেখা জরুরি। ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য থাকলে বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় জটিলতা হতে পারে। আইবাস প্লাস প্লাসে নিবন্ধিত মুঠোফোন নম্বর প্রয়োজন হবে। কারও এনআইডি না থাকলে চাকরির নথিতে থাকা জন্মতারিখ ও অন্যান্য তথ্য হালনাগাদ করে আবেদন করতে হবে।

১১ বছরের মাথায় সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য গত ১৯ সেপ্টেম্বর নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। ২০২৬–২৭ ও ২০২৭–২৮—এই দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে দেওয়া হবে বেতন–ভাতা। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর প্রথম ধাপ, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দ্বিতীয় ধাপ এবং ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তৃতীয় ধাপে দেওয়া হবে মূল বেতন। আর ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে যে মূল বেতন ছিল, তার ভিত্তিতে নতুন কাঠামোতে বেতন নির্ধারণ করা হবে। নতুন ও পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ এ বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেওয়া হবে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দেওয়া হবে পার্থক্যের ৭০ শতাংশ। এরপর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে পুরো নতুন মূল বেতন কার্যকর হবে। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে দুই দফায় মূল বেতনের ৭০ শতাংশ দেওয়ার জন্য ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

নতুন কাঠামোর হিসাব নিয়ে জটিলতা

নতুন বেতন আদেশ অনুযায়ী, কোনো স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়া একই পদে আট বছর পূর্ণ করলে এবং চাকরি সন্তোষজনক হলে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড পাবেন। প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর একই পদে আরও ছয় বছর চাকরি করলে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তবে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, আগের বেতনকাঠামোয় টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড পাওয়া কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নতুন কাঠামোর হিসাব নিয়ে জটিলতা রয়েছে। এগুলো ঠিক করা হচ্ছে।

অর্থ বিভাগের আদেশ অনুযায়ী, আগের বেতনকাঠামোতে একই পদে দুই বা ততোধিক সিলেকশন গ্রেড, টাইম স্কেল বা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে নতুন বেতনকাঠামোতে ওই পদে আর উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ নেই। অন্যদিকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত একই পদে একটিমাত্র উচ্চতর স্কেল বা গ্রেড পাওয়া থাকলে পরের ছয় বছর পূর্তির পর দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিধান রয়েছে।

এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর