ডেঙ্গুর বিস্তার এবং ফুটপাত পুনর্দখল রোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
তিনি বলেছেন, ‘নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে হকারমুক্ত ফুটপাত, ডেঙ্গুমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে কাজ করছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।’
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে ডেঙ্গু মশার লার্ভা ধ্বংস ও সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন ডিএনসিসি প্রশাসক।
তিনি বলেন, ‘গত তিন মাস ধরে প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। এর প্রধান লক্ষ্য নগরবাসীকে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষা করা এবং ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগর হিসেবে গড়ে তোলা।’

প্রশাসক জানান, ডিএনসিসির স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটরা সরকারি ভবন, বাসাবাড়ি ও পরিত্যক্ত স্থানে অভিযান চালিয়ে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত ও ধ্বংস করছেন। একইসঙ্গে বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
শফিকুল ইসলাম জানান, বর্তমানে উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক কম। বিভিন্ন হাসপাতালে প্রায় ৮০ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নগরবাসী ও সিটি করপোরেশনের সম্মিলিত সচেতনতার মাধ্যমে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব।
সরকার ঘোষিত ৯০ দিনের বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্থানীয় হাউজিং সোসাইটি, মালিক সমিতি ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ফুটপাত দখলমুক্ত করার বিষয়ে মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ১০ নম্বর এলাকার হোপ মার্কেটের সামনে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখলে থাকা ফুটপাত উদ্ধার করা হয়েছে। জনগণের চলাচলের সুবিধায় এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ফুটপাত পুনর্দখল রোধে স্থানীয় জনগণ, সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশের সমন্বয়ে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
শহরের সামগ্রিক উন্নয়ন ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে গণমাধ্যমসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন ডিএনসিসি প্রশাসক।
অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, অঞ্চল-৫-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাসহ করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া রেড ক্রিসেন্ট ও বিডি ক্লিনের স্বেচ্ছাসেবক এবং তেজগাঁও, মোহাম্মদপুর, ইন্দিরা রোড ও রাজাবাজার এলাকার বাসিন্দারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
এএইচ/এএইচ



