শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

নামজারি করতে ঘুস ৯ শতক জমি, উপসচিবসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

একে সালমান
প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০০ পিএম

শেয়ার করুন:

নামজারি করতে ঘুস ৯ শতক জমি, উপসচিবসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা
  • ৩০ শতক জমির মধ্যে ৯ শতক দিতে হয় ঘুস হিসেবে
  • অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিলে রেজিস্ট্রি করা হয় জমি
  • সহকারী কমিশনার (ভূমি) জমি নেন দাদী শ্বাশুড়ির নামে
  • ইউনিয়ন ভূমি সহকারী দুই কর্মকর্তা জমি নিয়েছেন শালার নামে

নামজারি করে দিতে ঘুস হিসেবে মোট জমির ৯ শতক নিয়েছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও তার সহযোগী ইউনিয়ন ভূমি সহকারী হিসেবে কর্মরত দুই কর্মকর্তা। ঘুসের এ জমি কর্মকর্তারা কৌশল অবলম্বন করে কেউ তার দাদি শাশুড়ি এবং কেউ তার শ্যালকের নামে রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন। এমন অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জনের দায়ে এক উপসচিবসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ইতিমধ্যে এ মামলায় অভিযুক্ত সাবেক ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আবুল হোসেন মারা যাওয়ায় তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার সদর উপজেলার তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের উপসচিব পঙ্কজ বড়ুয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মামলা সূত্রে জানা যায়, আদালত থেকে ডিক্রি পেয়ে কক্সবাজার মৌজার ৩০ শতক জমির নামজারি খতিয়ান করার জন্য রেকর্ডপত্র জমা দেন জমির মালিক। এরপর নামজারি করে দেওয়ার নামে তার কাছে জমি ঘুস চান কর্মকর্তারা। এ ঘটনার সঙ্গে তৎকালীন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন। তার সঙ্গে ইউনিয়নের কর্মকর্তারা মিলেমিশে জমির নামজারি করে দিতে ৯ শতক জমি ঘুস হিসেবে নেন। বর্তমানে সেই ভূমি কর্মকর্তা অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে উপসচিব হিসেবে কর্মরত।

এমন ঘটনায় দুদকের এ মামলায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের উপসচিব পঙ্কজ বড়ুয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পঙ্কজ বড়ুয়া ছাড়াও অন্য আসামিরা হলেন—কক্সবাজার সদর উপজেলার সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সাবেক ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা সৈয়দ নূর, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আবুল হোসেনের শ্যালক মফিজুর রহমান, সাবেক ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা সৈয়দ নূরের শ্যালক ইফতেখারুল হাসান ও পঙ্কজ বড়ুয়ার দাদি শাশুড়ি দীপিকা বড়ুয়া।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদকের সহকারী পরিচালক তানজীর আহমেদ জানান, কক্সবাজার মৌজায় আদালত থেকে ডিক্রি পাওয়া এক জমির মালিকের কাছ থেকে জমি নামজারি করে দেওয়ার কথা বলে ৯ শতক জমি লিখে নেন তৎকালীন কর্মকর্তারা। এরপর তাদের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিকভাবে তদন্ত শুরু করে দুদক। সেই প্রেক্ষিতে অভিযোগ প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রমাণিত হওয়ায় এখন মামলা হচ্ছে।

এদিকে, দুদকের অনুসন্ধানে জানা যায়, আদালত থেকে ডিক্রি পেয়ে কক্সবাজার মৌজার ৩০ শতক জমির নামজারি খতিয়ান করার জন্য রেকর্ডপত্র জমা দেন জমির মালিক। কিন্তু নামজারি করে দেওয়ার নামে তার কাছে ঘুস হিসেবে জমি দাবি করা হয়। পরে বাধ্য হয়ে জমির মালিক একটি অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিলে ২০১৭ সালের ৩০ এপ্রিল মোট ৯ শতক জমি রেজিস্ট্রি করে দেন।

এর মধ্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পঙ্কজ বড়ুয়ার পক্ষে তার দাদি শাশুড়ি দীপিকা বড়ুয়ার নামে ৩ শতক, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আবুল হোসেনের পক্ষে তার শ্যালক মফিজুর রহমানের নামে ৩ শতক এবং ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা সৈয়দ নূরের পক্ষে তার শ্যালক ইফতেখারুল হাসানের নামে ৩ শতক জমি রেজিস্ট্রি করা হয়।

অনুসন্ধানে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় দণ্ডবিধির ১৬১/১৬২/১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

একেএস/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর