রাজধানীর হাজারীবাগের পশ্চিম ধানমন্ডিতে একটি ১০ তলা ভবন থেকে পড়ে মোহাম্মদ সদলক খান বাবু (৩৫) নামে এক রংমিস্ত্রির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভবনের কেয়ারটেকার মো. মিল্টন ও দারোয়ান বাঁধন দিও’কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বাবুকে হত্যা করে ভবনের ওপর থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
নিহত মোহাম্মদ সদলক খান বাবু মৃত ইদ্রিস খানের ছেলে। তিনি হাজারীবাগের শংকর জাফরাবাদ এলাকার ২৭৯/১ নম্বর ১০ তলা ভবনের বেসমেন্টে বসবাস করতেন।
হাজারীবাগ থানার এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে ওই ভবনের প্রধান ফটকে দারোয়ান বাঁধন দিও’র সঙ্গে বাবুর হাতাহাতি হয়। পরে বাবু ফোন করে কয়েকজনকে ডেকে আনেন। তারা এসে দারোয়ানকে লোহার অ্যাঙ্গেল দিয়ে মাথায় আঘাত করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
দারোয়ানের চিৎকারে বাবুর সঙ্গে থাকা লোকজন সেখান থেকে চলে যায়। পরে ভবনের কেয়ারটেকার মো. মিল্টন ঘটনাস্থলে আসেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর বাবু পালানোর জন্য সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে ভবনের ১০ তলার ছাদে ওঠেন। এর এক থেকে দুই মিনিট পর কেয়ারটেকার মিল্টন আরও তিনজনকে সঙ্গে নিয়ে ছাদে যান। প্রায় এক মিনিট পর তারা ছাদ থেকে নিচে নেমে আসেন। কিছুক্ষণ পর ভবনের গ্যারেজের ওপর প্লাস্টিকের টিনের চালায় বাবুকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
এসআই সাইফুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে রাত ৯টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার দুপুরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, নিহতের পরনে নীল জিন্স ও হালকা গোলাপি রঙের টি-শার্ট ছিল। তার শরীরে ধূলাবালি লেগে ছিল। পিঠ থেকে কোমর পর্যন্ত আড়াআড়ি লালচে ও বেগুনি রঙের ক্ষত, দুই কনুইয়ে চামড়া ছিঁড়ে রক্তক্ষরণ এবং ঠোঁটে জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
এসআই সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে বাবুকে মারধর করে উঁচু স্থান থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশের ধারণা। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ ঘটনায় কেয়ারটেকার মো. মিল্টনকে প্রধান আসামি এবং দারোয়ান বাঁধন দিওসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার পর মিল্টন ও বাঁধনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহতের মা সুফিয়া বেগমের অভিযোগ, তার ছেলে মাজেদা ইন্টারনেট কোম্পানিতে চাকরির পাশাপাশি রংয়ের কাজ করতেন। ওই ভবনে রংয়ের কাজ করে বাবুর প্রায় তিন লাখ টাকা পাওনা ছিল। এর মধ্যে দেড় লাখ টাকা পরিশোধ করা হলেও বাকি টাকা তিনি পাননি বলে দাবি করেন।
সুফিয়া বেগম বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে ভবনের গ্যারেজে থাকা রংয়ের সরঞ্জাম আনতে গেলে দারোয়ান তাকে ভেতরে ঢুকতে বাধা দেন। এ নিয়ে বাবুর সঙ্গে দারোয়ানের তর্ক ও হাতাহাতি হয়।
নিহতের মা আরও অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে মারধর করার পর কিছু খাইয়ে অচেতন করে ভবনের ওপর থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ছেলের হত্যার বিচার দাবি করেন।
তবে নিহতের মায়ের এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এমএমআর/এসআই




