শ্রম আদালতে শ্রমিকদের আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ আরও শক্তিশালী করতে ১৩ জন শ্রমিক প্রতিনিধি ও ট্রেড ইউনিয়ন নেতাকে উন্নত প্যারালিগ্যাল প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে বুধবার তাদের সনদ দেওয়া হয়।
সলিডারিটি সেন্টার (এসসি) বাংলাদেশের উদ্যোগে ২১ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর তিন দিনব্যাপী আবাসিক এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২২০ ধারা প্রশিক্ষণের মূল বিষয় ছিল। এ ধারায় সাক্ষ্য দেওয়ার প্রয়োজন না থাকলে কোনো ব্যক্তি শ্রম আদালত বা ট্রাইব্যুনালে নিজে, লিখিতভাবে অনুমোদিত কোনো প্রতিনিধির মাধ্যমে অথবা আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদন, হাজিরা বা অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পান।
প্রশিক্ষণে অভিযোগ তৈরি ও দাখিল, মামলা দায়েরের সময়সীমা, প্লিডিং বা লিখিত বক্তব্য প্রস্তুত, সাক্ষীদের জেরা ও জবানবন্দি গ্রহণ, আদালতে বক্তব্য উপস্থাপন এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি মক ট্রায়াল, বিভিন্ন প্রদর্শনী ও শ্রম অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা-ভিত্তিক ব্যবহারিক অনুশীলনের মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।
এতে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২০২৬ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে আনা পরিবর্তন এবং বর্তমান আইনি প্রক্রিয়া ও বিধিবিধান সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়।
কর্মসূচিতে বলা হয়, প্রশিক্ষিত শ্রমিক প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্য পেশাদার আইনজীবীদের বিকল্প হিসেবে কাজ করা নয়। তারা শ্রমিকদের প্রাথমিক আইনি তথ্য, মামলা প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র তৈরিতে সহায়তা করতে পারবেন। জটিল মামলা পরিচালনা ও বিশেষায়িত আইনি পরামর্শের ক্ষেত্রে আইনজীবীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।
সলিডারিটি সেন্টার-বাংলাদেশ অফিসের কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর একেএম নাসিম বলেন, ‘ফেডারেশনের কর্মকর্তা ও নেতাদের জন্য এসসির এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পরিচালিত প্যারালিগ্যাল প্রশিক্ষণের ধারাবাহিকতায় এই কর্মসূচি তৈরি করা হয়েছে। পেশাদার আইনজীবীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অক্ষুণ্ন রেখে শ্রম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান তৈরি করাই ছিল এর উদ্দেশ্য।’
তিনি বলেন, অর্জিত দক্ষতা দায়িত্বশীল ও কার্যকরভাবে প্রয়োগের জন্য নিয়মিত মেন্টরিং, আদালতের কার্যক্রমে বাস্তব অভিজ্ঞতা, রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ এবং ধারাবাহিক আইনি সহায়তা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব লেবার স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘শ্রম আদালতে এক সময় শ্রমিক প্রতিনিধিরাই চর্চা করতেন। নানা মহলের প্রভাবে তা পরে বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু আইনে এখনো এই চর্চার সুযোগ রয়েছে। প্যারালিগ্যালরা শ্রমিকদের যত সহায়তা করবে, শ্রমিকরা আইনি প্রক্রিয়ার কাগুজে জটিলতা থেকে ততটাই রক্ষা পাবে।’
সনদগ্রহণকারী প্যারালিগ্যাল মো. রিপন মিঞা বলেন, ‘একজন উকিল হতে হলে অনেক আইন জানা প্রয়োজন। সলিডারিটি সেন্টারের এই প্রশিক্ষণ আমাদের শিখিয়েছে মামলা পরিচালনার প্রতিটি সূক্ষ্ম ধাপ। এই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে আমরা শ্রমিক স্বার্থ নিশ্চিতে শ্রম আদালতে তাদের প্রতিনিধিত্ব করতে পারছি।’
টিএই/এএস




