রাজধানীর ডেমরায় ভাড়া বাসা থেকে দ্বিতীয় বিয়ের মাত্র ২৩ দিনের মাথায় সুমাইয়া আক্তার লাকি (৩৩) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পারিবারিক কলহের জেরে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য সুমাইয়ার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এর আগে, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ডেমরার সারুলিয়া বকুলতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত সুমাইয়া আক্তার লাকি সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর এলাকার লক্ষ্মণ তালুকদারের মেয়ে।
তিনি আগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
নিহতের বোন ডলি জানান, প্রথমে লাকির রেজাউল নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল। ওই সংসারে তাদের ১০ বছরের একটি ছেলেসন্তান রয়েছে। পরে আগের স্বামীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৬ সেপ্টেম্বর কাজের উদ্দেশে ঢাকায় আসেন লাকি। পরে তারা জানতে পারেন, ঢাকায় এসে তিনি আগের স্বামীর বন্ধু আশরাফুলকে বিয়ে করেন। এরপর ডেমরার সারুলিয়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন তারা।
তবে কী কারণে লাকির মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত নন বলে জানান তার বোন ডলি।
ডেমরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাইদুল হক জানান, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মঙ্গলবার ভোর ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে কোনো একসময় পারিবারিক কলহের জেরে বাসার বারান্দার একটি ছোট কক্ষে ওড়না প্যাঁচিয়ে লাকি আত্মহত্যা করেন।’
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে বলেও জানান তিনি।
এসআই সাইদুল হক আরও বলেন, ‘ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তিনি ঘটনার সময় গর্ভবতী ছিলেন কি না, সেটিও ময়নাতদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে।’
এ ঘটনায় ডেমরা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত করছে।
এমএমআর/এএম




