মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

২০২৭ সালের পর সব শ্রমিকের জন্য ইআইএস চালুর প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৮ পিএম

শেয়ার করুন:

২০২৭ সালের পর সব শ্রমিকের জন্য ইআইএস চালুর প্রস্তাব
বিলস আয়োজিত ইআইএস পাইলট প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে মিডিয়া ওরিয়েন্টেশন। ছবি: সংগৃহীত

তৈরি পোশাক খাতে পরীক্ষামূলকভাবে চালু থাকা এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম (ইআইএস) ২০২৭ সালে পাইলট প্রকল্প শেষ হওয়ার পর সব খাতের শ্রমিকের জন্য সর্বজনীন করার প্রস্তাব উঠেছে। একই সঙ্গে দেশের বড় অংশের অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদেরও এ স্কিমের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) আয়োজিত ইআইএস পাইলট প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে মিডিয়া ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে এসব দাবি ও প্রস্তাব উঠে আসে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় কোনো শ্রমিক মারা গেলে বা স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে শুধু ওই শ্রমিকই নন, তার পুরো পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ে। এ ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ইআইএস শ্রমিক ও তার পরিবারের জন্য সামাজিক সুরক্ষার একটি কার্যকর ব্যবস্থা হতে পারে। তবে বর্তমানে এর আওতা সীমিত থাকায় সব খাতের শ্রমিককে এর আওতায় আনা প্রয়োজন।

আইএলও-ইআইএসের চিফ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার সৈয়দ সাদ হুসাইন গিলানী বলেন, ইআইএসের আওতায় শ্রমিক ও তার পরিবার তিন ধরনের সুবিধা পেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে মজুরির ৫০ শতাংশের সমপরিমাণ আর্থিক সহায়তা, অক্ষম শ্রমিকের পুনর্বাসন এবং কর্মক্ষেত্রের দুর্ঘটনার পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেও সুবিধা।

অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে ইআইএস পাইলট প্রকল্পের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরা হয়। বিলসের যুগ্ম মহাসচিব সাকিল আখতার চৌধুরী জানান, বর্তমানে এ স্কিমের মোট সুবিধাভোগী ৫৭৪ জন। এ পর্যন্ত ২৪৮টি দুর্ঘটনায় ১৬১ জন মৃত শ্রমিকের পোষ্য এবং ৮৭ জন স্থায়ীভাবে অক্ষম শ্রমিক ইআইএসের আওতায় মোট ৪ কোটি ২৮ লাখ ৩১ হাজার ৫৭২ টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন।

বক্তারা বলেন, কর্মক্ষেত্রের ঝুঁকি মোকাবিলা ও আয় হারানোর ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ, শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য কমাতেও ইআইএস ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানে তিনটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ইআইএসের বর্তমান মডেল অনুসরণ করে সব খাতের শ্রমিকের জন্য স্কিমটি বাস্তবায়ন করা, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের আওতায় আনা এবং ২০২৭ সালে পাইলট প্রকল্প শেষ হওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইন ও বিধি প্রণয়ন করে ইআইএসকে সর্বজনীন করা।

বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ বলেন, বর্তমানে ইআইএস তৈরি পোশাক খাতে পাইলট প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে একটি পরিবার বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়ে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ইআইএস শ্রমিক ও তার পরিবারের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখছে।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন স্বপন বলেন, ২০২২ সালে প্রকল্পটি শুরু হয়। এর ফলে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি শ্রম আইনে সন্নিবেশিত হয়েছে। সরকার ও মালিকপক্ষের সহযোগিতায় এ উদ্যোগ চলমান রাখার প্রত্যাশা করেন তিনি।

শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) যুগ্ম সমন্বয়কারী এএএম ফয়েজ হোসেন বলেন, পাইলট প্রকল্পটি শুরুতে শুধু তৈরি পোশাক খাতের জন্য ছিল। এখন এটি সব শ্রমিকের জন্য সর্বজনীন করা প্রয়োজন।

সমাপনী বক্তব্যে বিলসের ভাইস চেয়ারম্যান ও ইআইএস গভর্ন্যান্স বোর্ডের সদস্য আনোয়ার হোসাইন ইআইএস সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বও করেন তিনি। সঞ্চালনা করেন ইআইএস গভর্ন্যান্স বোর্ডের সদস্য তৌহিদুর রহমান।

রানা প্লাজা ও তাজরীন দুর্ঘটনার পর তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে ২০২২ সালের জুন থেকে ইআইএস পাইলট প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। আইএলও বাংলাদেশ ও জিআইজেডের কারিগরি সহায়তায় এবং নেদারল্যান্ডস, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তায় প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে।

প্রকল্পটির আর্থিক সুবিধা আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি বেনিফিট কনভেনশন-১২১ (১৯৬৪) অনুসারে নির্ধারণ করা হয়েছে।

এমআর/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর