সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

বংশালের নিখোঁজ শিশু জিসান উদ্ধার, অপহরণের নাটক প্রতারক চক্রের

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম

শেয়ার করুন:

বংশালের নিখোঁজ শিশু জিসান উদ্ধার, অপহরণের নাটক প্রতারক চক্রের
উদ্ধার হওয়া মাদরাসাছাত্র জিসান (১১)

রাজধানীর বংশাল থানার সাতরওজা খাজে নেহাল জামে মসজিদের মাদরাসা থেকে নিখোঁজ হওয়া ১১ বছরের ছাত্র জিসানকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত ২৭ সেপ্টেম্বর তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশ বলছে, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি। মাদরাসার এক শিক্ষার্থীর মুঠোফোন নেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর ভয়ে সে মাদরাসা থেকে পালিয়ে যায়। পরে সে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে লঞ্চে করে চাঁদপুরে চলে যায়। সেখানে গিয়ে এক অটো মেকানিকের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। এদিকে জিসানকে অপহরণ করা হয়েছে দাবি করে তার বাবার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে একটি প্রতারক চক্র। ওই চক্রের কথায় বিশ্বাস করে জিসানের বাবা ১০ হাজার টাকা পাঠান।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন লালবাগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর আসরের নামাজের পর মাদরাসা থেকে বের হওয়ার পর জিসানের আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে পরদিন বংশাল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা সাজু মিয়া। জিডি নম্বর ১১৩১।

জিডির তদন্ত কর্মকর্তা বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাশেদুল ইসলাম মাদ্রাসার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেন এবং অন্যান্য শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ফুটেজে জিসানকে মাদরাসা থেকে বের হতে দেখা গেলেও এরপর সে কোন দিকে গেছে, সে বিষয়ে আর কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি।

অপহরণের কথা বলে টাকা দাবি

জিসান নিখোঁজ হওয়ার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি কাজে লাগায় একটি প্রতারক চক্র। তারা ইমোতে জিসানের বাবাকে ফোন করে জানায়, জিসান তাদের কাছে রয়েছে। তাকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়।

জিসানের বাবা ওই চক্রের কথায় বিশ্বাস করে ১০ হাজার টাকা পাঠান। তবে জিসান উদ্ধারের পরও প্রতারক চক্রটি তার বাবাকে ইমোতে ফোন করে টাকা দাবি করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বংশাল থানা পুলিশ টাকা পাঠানোর বিকাশ নম্বরটি পর্যালোচনা করে জানতে পারে, নম্বরটির ঠিকানা গাজীপুরের শ্রীপুর থানা এলাকায়। পরে শ্রীপুর থানা পুলিশের সহায়তায় সংশ্লিষ্ট বিকাশের দোকান থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়। এসব তথ্য বংশাল থানার জিডির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রাশেদুল ইসলামকে দেওয়া হয়েছে। প্রতারক চক্রটিকে শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।

যে কারণে মাদরাসা ছেড়েছিল জিসান

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, মাদরাসা এক ছাত্রের মুঠোফোন ও ২০০ থেকে ৩০০ টাকা জিসান লুকিয়ে রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে জিসান অভিযোগ অস্বীকার করে। পরে তার বিছানার বালিশের নিচ থেকে ওই মুঠোফোনটি পাওয়া যায়।

পুলিশের ধারণা, মুঠোফোন নেওয়ার অভিযোগে ভয় পেয়ে জিসান মাদরাসা থেকে পালিয়ে যায়। পরে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে একটি লঞ্চে করে চাঁদপুরে চলে যায়।

চাঁদপুরে গিয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া এলাকার সৈকত নামের এক অটো মেকানিকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে সৈকতের সঙ্গে ঢাকায় ফিরে কাজ করার পাশাপাশি তার বাসায় অবস্থান করতে থাকে জিসান।

পুলিশ জানায়, সৈকতের কাছে জিসান নিজের পরিচয় দিয়ে বলেছিল, তার বাবা মারা গেছেন এবং মা অন্যত্র বিয়ে করেছেন। পরে জিসানের কথাবার্তায় সৈকতের সন্দেহ হয়। তিনি জিসানের কাছ থেকে তার খালার মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করে বিষয়টি জানান।

এরপর বংশাল থানার এসআই রাশেদুল ইসলাম গত ২৭ সেপ্টেম্বর গিয়ে জিসানকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে তার অভিভাবকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, জিসানের বাবার কাছে এখনো ইমোতে ফোন করে টাকা দাবি করা হচ্ছে। প্রতারক চক্রটি শনাক্ত করে তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

এমআইকে/এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর