শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

‘টিকাদানকেন্দ্র ভাঙচুরে এমপি ও পুলিশ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০২ পিএম

শেয়ার করুন:

‘টিকাদানকেন্দ্র ভাঙচুরে এমপি ও পুলিশ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা’
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ

রাজধানীর মিরপুর-১ এর বেসরকারি সংস্থা রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগের ঘটনায় সংরক্ষিত সংসদ সদস্য (এমপি) ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এছাড়া পুলিশের গাফিলতি থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ এ কথা বলেন।

স্পেসিফিক একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, উনি সংসদ সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌসী মিষ্টি এই ঘটনা ঘটিয়েছেন এবং সে সময় তিনি পুলিশকে ব্যবহার করেই ঘটনা ঘটান। 

এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, মামলা হয়েছে, আমরা মামলা তদন্ত করছি। মামলা তদন্তেই এই ঘটনায় যারাই জড়িত তাদের আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসবো।

থানার মাত্র এক কিলোমিটারের মধ্যে লুটপাট করা হয়েছে, ট্রাক নিয়ে আসা হয়েছে, এখানকার মালপত্র ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে আপনি কী বলবেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এই ধরনের একটি জনাকীর্ণ জায়গায় এটা তো নিশ্চয়ই দীর্ঘ সময় ধরে বেশি ধ্বংস করা হয়েছে, আমি আজকে পরিদর্শন করে যা দেখলাম, তাতে আমার কাছে মনে হয়েছে এটা আধা ঘণ্টা এক ঘণ্টায় করা সম্ভব নয়। এটা সময় নিয়েই করা হয়েছে। বিশেষ করে দুই পাশে টিনের শেড আছে, টিনের শেডগুলোও বিনষ্ট করা হয়েছে, ভাঙা হয়েছে এবং বিল্ডিংয়ের বিভিন্ন জায়গায় আমি যে আলামত দেখতে পেয়েছি। এটাও আমি জানতে পেরেছি বিল্ডিংয়ের মধ্যে ল্যাব ইকুইপমেন্টের অনেক যন্ত্রপাতি পাওয়া যাচ্ছে না, যন্ত্রপাতি নিয়ে গেছে বলে আমার কাছে মনে হচ্ছে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, এ ঘটনা আমাদের নলেজে আসার সঙ্গে সঙ্গে ডিসিকে ইন্সট্রাকশন দিয়েছি এবং মামলা রেকর্ড হয়েছে। ৪ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছি। পুলিশের পক্ষ থেকে যে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সে ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি এবং অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার করার জন্য আমাদের কঠোর নির্দেশনা আছে। 

যারা এখানে জড়িত এজাহারে নাম উল্লেখ করে ২০০ থেকে ২৫০ অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে মামলা হয়েছে। এজাহারে একজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাকে গ্রেফতারের জন্য আমরা চেষ্টা করছি। আশা করছি খুব দ্রুত তাকে গ্রেফতার করতে পারবো। পাশাপাশি অন্যান্য যারা জড়িত ছিল, তাদের মধ্যে আমরা চারজনকে গ্রেফতার করেছি। পুলিশের অভিযান চলছে এবং খুব দ্রুত বাকিদের গ্রেফতার করতে পারবো।

ঘটনার সময় পুলিশ উপস্থিত ছিল যখন ভাঙচুর করা হয়েছে, এ ঘটনায় পুলিশও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে—সাংবাদিকদের এসব প্রশ্নে তিনি বলেন, আপনি ঠিকই বলেছেন। এটা এ ধরনের একটি ঘটনা প্রিভেন্ট করা অবশ্যই পুলিশের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। আমরা দেখছি পুলিশের এই ক্ষেত্রে কোনো অবহেলা ছিল কিনা। পুলিশ জানার পরেও পুলিশ সময়মতো এসেছিল কিনা এবং পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো অবহেলা আছে কিনা, সবকিছু দেখা হবে।

এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর