শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বাড়াতে বাংলাদেশ-ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর মধ্যে সমঝোতা সই

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৭ পিএম

শেয়ার করুন:

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বাড়াতে বাংলাদেশ-ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর মধ্যে সমঝোতা সই
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চ পর্যায়ের সপ্তাহের ফাঁকে বাংলাদেশ এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর সমঝোতা স্মারক সই

বাংলাদেশ ও ক্যারিবীয় দেশ ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুসংহত করতে ‘দ্বিপক্ষীয় পরামর্শ ব্যবস্থা’ প্রতিষ্ঠায় একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চ পর্যায়ের সপ্তাহের ফাঁকে বাংলাদেশ এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এ সমঝোতা স্মারক সই হয়।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম সোবার্স এমপি নিজ নিজ দেশের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে সই করেন।

অনুষ্ঠানে হুমায়ুন কবির বলেন, কমনওয়েলথ, জাতিসংঘ, জি-৭৭সহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মের অংশীদার হিসেবে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করতে বাংলাদেশ আগ্রহী।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সমঝোতা স্মারক দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়মিত পর্যালোচনা, বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক, কারিগরি ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে মতবিনিময়ের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি খাত দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হতে পারে। এ বিষয়ে তিনি ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর ন্যাশনাল গ্যাস কোম্পানি, আটলান্টিক এলএনজি, ফিনিক্স পার্ক গ্যাস প্রসেসরসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং অ্যামোনিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দ্রুত একটি কারিগরি বৈঠকের আয়োজনের বিষয়ে সহযোগিতা কামনা করেন।

তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২০২৭-২০২৮ মেয়াদে অস্থায়ী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় ত্রিনিদাদ ও টোবাগোকে অভিনন্দন জানান।

MoU

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়ে আসছে। তবে মানবিক সহায়তার অর্থায়ন কমে যাওয়া এবং মিয়ানমারের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে।

তিনি নিরাপত্তা পরিষদে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর আসন্ন মেয়াদকালে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখতে দেশটির গঠনমূলক সহযোগিতা কামনা করেন।

এ সময় তিনি ক্রিকেটকে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগের একটি স্বাভাবিক সেতু হিসেবে উল্লেখ করে যুব ও নারী ক্রিকেট, ক্রীড়া বিজ্ঞান এবং ক্রীড়া প্রশাসনে সহযোগিতা ও বিনিময়ের প্রস্তাব দেন।

উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করে যে, আজকের এই সমঝোতা স্মারক বাংলাদেশ ও ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও কাঠামোবদ্ধ, কার্যকর ও কর্মমুখী অংশীদারত্বে রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এসএইচ/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর