শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫১ এএম

শেয়ার করুন:

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো বার্তা

বিশ্বজুড়ে যখন যুদ্ধ, সংঘাত আর অস্থিরতার কালো মেঘ, ঠিক তখনই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শান্তির পক্ষে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ মঞ্চে সুদৃঢ় কণ্ঠস্বর তুললেন। কেবল নিজ দেশের সংকটই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের মুক্তিকামী ফিলিস্তিনিদের অধিকার থেকে শুরু করে বৈশ্বিক জলবায়ু সুবিচার। সবকিছু নিয়েই বিশ্বনেতাদের সামনে বাংলাদেশের স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি স্পষ্ট ভাষায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, অস্ত্রের ঝনঝনানি দিয়ে কোনো সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়; বরং যেকোনো বিরোধের নিষ্পত্তি হওয়া উচিত কেবলই সংলাপ, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার প্রতি বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের অটুট সমর্থনের কথা পুনরায় ব্যক্ত করেন।

ফিলিস্তিন ইস্যুতে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে। আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।’

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের পাশাপাশি দেশের অন্যতম বড় মাথাব্যথা রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়েও বিশ্বনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। ৯ বছরের বেশি সময় ধরে ১২ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি, জীববৈচিত্র্য ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ওপর যে চরম চাপ তৈরি হয়েছে, তা অত্যন্ত বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ‘বাংলাদেশ দীর্ঘ নয় বছরেরও বেশি সময় ধরে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। এতে বাংলাদেশের সম্পদ, পরিবেশ, নিরাপত্তা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে।’ 

তিনি বিশ্ববিবেককে স্মরণ করিয়ে দেন যে, ‘এই সংকটের শেকড় যেহেতু মিয়ানমারেই নিহিত, তাই রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদে ফিরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমেই এর একমাত্র স্থায়ী সমাধান সম্ভব।’ 

এজন্য তিনি জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আরও কার্যকর ও দৃশ্যমান সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

এসটি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর