মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

দক্ষ ও পেশাদার সিভিল সার্ভিস গড়ার তাগিদ প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২১ পিএম

শেয়ার করুন:

দক্ষ ও পেশাদার সিভিল সার্ভিস গড়ার তাগিদ প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীর
‘ডিজিটাল কম্পিটেন্সি অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক (ডিজক্যাফ)’ শীর্ষক সেমিনারের একটি মুহূর্ত

একটি দক্ষ, পেশাদার ও ভবিষ্যতের চাহিদা মোকাবিলায় সক্ষম সিভিল সার্ভিস গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। একইসঙ্গে দক্ষতাভিত্তিক মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা জরুরি বলেও মন্তব্য তার।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সোনাগাঁও হোটেলে আয়োজিত বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তাদের ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রণীত ‘ডিজিটাল কম্পিটেন্সি অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক (ডিজক্যাফ)’ নিয়ে ভ্যালিডেশন সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) বাংলাদেশ অফিস এবং গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (জেমস) সহযোগিতায় সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ডিজিটাল দক্ষতা চিহ্নিত ও উন্নয়নে ডিজক্যাফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একইসঙ্গে জেনারেল কম্পিটেন্সি ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে জনপ্রশাসনের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে প্রশিক্ষণ, কর্মজীবনের উন্নয়ন ও কর্মদক্ষতার আরও কার্যকর সমন্বয় করা সম্ভব হবে বলে আমি আশা করি।’ 

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তৈরি ডিজক্যাফ বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তাদের ডিজিটাল দক্ষতা চিহ্নিত ও উন্নয়নে একটি নির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। এতে ডিজিটাল দক্ষতার চারটি ক্ষেত্র ও ১২টি মূল দক্ষতা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি জ্ঞান, দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গির (কেএসএ) ভিত্তিতে কর্মকর্তাদের দক্ষতা মূল্যায়নের পদ্ধতি রাখা হয়েছে। 

সেমিনারে ভবিষ্যৎ ‘জেনারেল কম্পিটেন্সি ফ্রেমওয়ার্ক’-এর প্রাথমিক ধারণাও তুলে ধরা হয়। এই ফ্রেমওয়ার্ক সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে কী ধরনের দক্ষতা প্রয়োজন, তা চিহ্নিত ও উন্নয়নে সহায়তা করবে। 

সেমিনারে আরও উল্লেখ করা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন সাপেক্ষে আগামী নভেম্বর থেকে ডিজিটাল কমপিটেন্সি অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট ফ্রেমওয়ার্কটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন শুরু হবে। 

জাইকা বাংলাদেশের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ জুনকো তাকাহাশি বলেন, ‘জনপ্রশাসনের কাজের ধরন এখন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি, ডেটা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্ল্যাটফর্মভিত্তিক সেবা সরকারের কার্যক্রমেও বড় পরিবর্তন আনছে। এর ফলে নাগরিকদের উন্নত সেবা দেওয়া, প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও দক্ষ করা, তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নীতি প্রণয়ন এবং স্বচ্ছতা বাড়ানোর নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।’ 

ডিজক্যাফের মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ডিজক্যাফ শুধু ডিজিটাল জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, সরকারি কর্মকর্তারা যেন ডিজিটাল প্রযুক্তি কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারেন, তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং ডিজিটাল যুগে দায়িত্বশীল ও নৈতিক নেতৃত্ব দিতে পারেন- সেই ব্যবহারিক দক্ষতা গড়ে তোলার ওপরও এই কাঠামো গুরুত্ব দেয়।’ 

আইসিটি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা বলেন, ‘ডিজিটাল সরকার শুধু প্রযুক্তির বিষয় নয়, এর সঙ্গে প্রতিষ্ঠান, মানুষ, কাজের প্রক্রিয়া ও আস্থার বিষয়টিও জড়িত। এসব ক্ষেত্রে সক্ষমতা বাড়ানো এবং ভবিষ্যতের ডিজিটাল সরকারের জন্য বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসকে প্রস্তুত করতে ডিজক্যাফ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করবে।’ 

সমাপনী বক্তব্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘দক্ষতা উন্নয়নের সঙ্গে প্রশিক্ষণ, কর্মজীবনে অগ্রগতি ও ব্যবহারিক মূল্যায়নের সমন্বয় করা গেলে সরকারি কর্মকর্তারা ডিজিটাল প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার, নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং নাগরিকদের আরও কার্যকর সেবা দেওয়ার জন্য ভালোভাবে প্রস্তুত হতে পারবেন। ডিজক্যাফ ও ভবিষ্যৎ জেনারেল কম্পিটেন্সি ফ্রেমওয়ার্ক আরও দক্ষ, পেশাদার ও ভবিষ্যৎমুখী সিভিল সার্ভিস গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।’ 

সেমিনারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তা, সরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। ডিজক্যাফ চূড়ান্ত করার আগে এর বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা এবং অংশীজনদের মতামত নেওয়াই ছিল আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে দক্ষতাভিত্তিক সক্ষমতা উন্নয়নের চলমান উদ্যোগের অংশ হিসেবে সেমিনারটি আয়োজন করা হয়। এ উদ্যোগে কারিগরি সহযোগিতা দিচ্ছে জাইকা।

এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর