মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

দু-একটা ককটেল ফুটিয়ে সরকারের কিছু করা যাবে না: ডা. জাহেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০২ পিএম

শেয়ার করুন:

দু-একটা ককটেল ফুটিয়ে সরকারের কিছু করা যাবে না: ডা. জাহেদ
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান

রাজধানী ঢাকায় দু-একটি ককটেল বিস্ফোরণ বা বাসে অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনায় সরকারের বিরুদ্ধে কোনো সংকট তৈরি করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত এবং পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব নিয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘রাজনৈতিক কোনো সংকট আমরা দেখছি না। একটা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার পাঁচ বছর দায়িত্বে থাকবে—এটা মেনে নিয়েই আসলে রাজনীতি করা উচিত।’

বিরোধী দলের চলমান কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিরোধী দল এখন যারা আছেন, তারা লংমার্চ করছেন। করুন, তারা সরকারকে এক দফাও দিয়ে দিচ্ছেন।’

উপদেষ্টা বলেন, ‘ভারতের কংগ্রেস পার্টি এত বড় আন্দোলন করল বা এর আগে মোদির বিরুদ্ধে ফারমারদের আন্দোলন হয়েছিল, মানে দিল্লি বন্ধ করে ফেলা হয়েছিল, কিন্তু সরকারের পদত্যাগ চাওয়া হয় নাই। ব্যর্থতা যেখানে, সেখানে চাপ তৈরি করা, সেটাই বেটার হয়।’

সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বলছি না, কিন্তু ঢাকা শহরে কিছু কিছু জায়গায় দুই-একটা ককটেল ফুটেছে, বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে—এগুলো করে আসলে সংকট তৈরি করা যাবে বলে আমি মনে করি না। দু-একটা ককটেল ফুটিয়ে সরকারের কিছু করা যাবে না।’

সাম্প্রতিক জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, ডিজেলে সরকার প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান করত। সেই লোকসান কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমার পরও দেশে কেন দাম বাড়ানো হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিশ্ববাজারের জ্বালানির দাম বর্তমানে খুবই অস্থিতিশীল। সামনে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। এ অবস্থায় সরকার কতটা ভর্তুকি দিতে পারবে, সেটিও বিবেচনার বিষয়।

উপদেষ্টা বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় জনগণের কষ্ট হবে—সরকার বিষয়টি জানে। এই কষ্ট লাঘবে পরিবহনে যৌক্তিক মূল্য বৃদ্ধি নিশ্চিত করা এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হবে।

সরকার কল্যাণমূলক ব্যয়কে গুরুত্ব দেয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সব খাতে একসঙ্গে ব্যয় করা কঠিন। তাই বিভিন্ন খাতের মধ্যে ভারসাম্য করতে হচ্ছে।

দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, আগস্টে গ্যাস সরবরাহ নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তা বর্তমানে অনেকটাই কেটে গেছে। সংকটের আগে দেশে যে পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ ছিল, বর্তমানে পরিস্থিতি সেই পর্যায়ে ফিরে এসেছে।

একই সঙ্গে গ্যাসের আমদানি নির্ভরতা কমাতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি। জ্বালানি খাতে ভর্তুকির চাপের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বর্তমান সরকারের সময়েই নেওয়া হয়েছিল।

জাহেদ উর রহমান বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে তাদের বেতন স্কেল সংশোধন হয়নি। এ কারণে এটিকেও সরকারের একটি অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে একসঙ্গে পুরো বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন না করে ধাপে ধাপে তা কার্যকর করা হচ্ছে।

সরকারের ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচি ফ্যামিলি কার্ডের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য একটি ডাটাবেইজ তৈরির কাজ চলছে। ধাপে ধাপে সবাইকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদান প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান জানান, ২৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনা ও কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকটের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ ধরে রাখার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে গুরুত্ব পাবে বলেও জানান তিনি। বিশ্বের বিভিন্ন সংকটের কারণে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মনোযোগ কমে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করে এ বিষয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা থাকবে বলে জানান তথ্য উপদেষ্টা।

তিনি আরও জানান, ওয়াল স্ট্রিট ও মেটার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশের বোয়িং কেনার প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, এটি একটি প্রকাশিত তথ্য। ফলে এ ধরনের একটি চুক্তি হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তা এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

প্রধানমন্ত্রীর সানফ্রান্সিসকো সফর সংক্ষিপ্ত করার বিষয়ে তিনি বলেন, সেখানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কোনো অনুষ্ঠান ছিল না। দলীয় বা অন্য একটি কর্মসূচি ছিল। পরবর্তীতে সফর সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে ব্যয় সাশ্রয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে।

জেবি/এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর