সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

বিএনপি নেতা ফারুক হত্যায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড, ৪ জনের যাবজ্জীবন

জেলা প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম

শেয়ার করুন:

বিএনপি নেতা ফারুক হত্যা: মৃত্যুদণ্ড ৩, যাবজ্জীবন ৪
ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম ফারুক হোসেন। ফাইল ছবি

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান ও টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম ফারুক হোসেন হত্যা মামলায় তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া চারজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং একজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ফয়সাল আল মামুন এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামি হলেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাগমারা এলাকার আফজাল ফকিরের ছেলে মো. আজাদ (২৫) ও দাইন্যা ইউনিয়নের শ্রীফলিয়াটা গ্রামের মো. সহিদ মিয়ার ছেলে মো. শাহজাহান মিয়া (৩১)। সানিয়াত খান বাপ্পাসহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিই পলাতক।

যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন টাঙ্গাইল সদর থানার কাঠোয়া যোগনী গ্রামের আব্দুল লতিফ মিয়ার ছেলে মো. সুজন (৩২), শ্রীফলিয়াটা গ্রামের রওশন আলীর ছেলে সানোয়ার হোসেন (৩৪), উত্তর কাইয়ামারা নদীর পাড় (চর পাড়া) গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে শফিকুল ইসলাম শফিক (২৫) ও ছিটকীবাড়ি গ্রামের নুর বক্সের ছেলে রুজবেল ওরফে ইমন। তাদের মধ্যে শফিক ও রুজবেল পলাতক।

রায়ে সঞ্জিত ঘোষ (২৬) নামের এক আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। তিনি সদর থানার দাইন্যা চৌধুরী গ্রামের অমূল্য ঘোষের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের প্রত্যেককে আরও এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। রায় ঘোষণার পর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সুজন ও সানোয়ার হোসেনকে কারাগারে পাঠানো হয়।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা।
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা। 

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, রফিকুল ইসলাম ফারুক হোসেন টাঙ্গাইল শহরের আকুরটাকুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে তিনি প্রাতঃভ্রমণে বের হন। আকুরটাকুর বটতলা বাজার এলাকায় পৌঁছালে একদল সন্ত্রাসী তাকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় পরদিন ফারুকের ছোট ভাই লাভলু মিয়া বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।

তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তৎকালীন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অশোক কুমার সিংহ। তবে ওই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী লাভলু মিয়া।

সুজন ও সানোয়ার।

পরে আদালতের নির্দেশে মামলাটির পুনঃতদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল টাঙ্গাইল সিআইডির পরিদর্শক রফিক উদ্দিন আহম্মেদ আবারও অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ওই অভিযোগপত্রেও আগের আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

পরে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। প্রায় ১৩ বছর পর আজ সোমবার এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।

টাঙ্গাইল জজ কোর্টের অতিরিক্ত পিপি সাইদুল রহমান স্বপন বলেন, বিচার শেষে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত চারজনকে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর