রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

অপ্রতিম সিনিয়রদের সঙ্গে মিশতো, আরও যা বললেন রাশেদ খাঁন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৩ পিএম

শেয়ার করুন:

অপ্রতিম সিনিয়রদের সঙ্গে মিশতো, আরও যা বললেন রাশেদ খাঁন
মূল ছবিতে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী রাশেদ খাঁন। ইনসেটে কুমিল্লায় খুন হওয়া কিশোর অপ্রতিম

কুমিল্লায় হত্যাকাণ্ডের শিকার কিশোর অপ্রতিম সিনিয়রদের সঙ্গে মিশতে পছন্দ করতো বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে- এসব খোঁজখবর রাখা বাবা-মায়ের দায়িত্ব বলেও অভিমত তার।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক পোস্টে এই মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। সেখানে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিরোধী দল সরকারকে অসহযোগিতা করছে- এমন অভিযোগও তুলেছেন তিনি।  

অপ্রতিমের হত্যার কথা উল্লেখ করে রাশেদ লিখেছেন, ‘সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে, তার বন্ধু সার্কেল কেমন, সেটার খোঁজখবর রাখা আমাদের প্রত্যেক বাবা-মায়ের দায়িত্বও বটে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকার একমাত্র সন্তান অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড সেটি আমাদের আরও স্মরণ করিয়ে দেয়।’

তিনি লিখেছেন, ‘যে তিনজন ঘাতককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে, তারা এলাকায় কিশোর গ্যাং হিসেবে পরিচিত। সিসিটিভি ফুটেজ থেকে পরিলক্ষিত হয় যে, হত্যাকাণ্ডের শিকার অপ্রতিম ঘাতক তুহিনের সঙ্গে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে হাঁটাচলা করছে। আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, অপ্রতিম একটু সিনিয়র ক্লাসের বন্ধুদের সঙ্গে মিশতে পছন্দ করতো। সেই জায়গা থেকে তুহিনদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয়।’

নিজের উদাহরণ দিয়ে রাশেদ খান বলেন, ‘আমরাও ছোটবেলায় এলাকার বড় ভাইদের সঙ্গে ওঠাবসা করেছি। কিন্তু এলাকার খারাপ ছেলেদের থেকে সবসময় দূরে থাকার চেষ্টা করেছি। এক্ষেত্রে বাবা-মায়ের শাসন ও নৈতিক নির্দেশনাও বড় একটি ব্যাপার ছিল।’

তিনি লিখেছেন, ‘সব এলাকাতেই তুহিনদের মত কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত আছে। ফেসবুকে চটকদার ছবি, সিনেমাটিক ভিডিও প্রকাশ করে এরা অল্পবয়স্ক তরুণদের মধ্যে আকর্ষণ তৈরি করে সার্কেলে ভেড়াতে চেষ্টা করে। গণমাধ্যমের খবরে এসেছে, আইফোনের লোভে ছবি তোলার কথা বলে এরা অপ্রতিমকেও বিভ্রান্ত করে ঘর থেকে বের করে আনে।’

রাশেদ বলেন, ‘বাবা-মায়ের কর্মব্যস্ততায় হয়তো শিশুটির যে এদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয়েছে, সেটি বুঝে উঠতে পারেনি। তবে অপ্রতিমের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কিশোর গ্যাং নির্মূলের বার্তা দেয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলব, এবিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। নতুবা আগামীকাল আপনার আমার সন্তানের পরিণতিও অপ্রতিমের মতো হতে পারে।’

বিরোধী দলের কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে তিনি লিখেছেন, ‘সব ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়ী করতে পারেন, যেহেতু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কি বর্তমান বিরোধী দলের দেশব্যাপী নিত্যনতুন কর্মসূচির নিরাপত্তা দিতে ব্যস্ত থাকবে, নাকি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা রোধে মনোযোগ দেবে, নাকি সামাজিক অপরাধ বন্ধে বেশি গুরুত্ব দেবে? কোথায় অগ্রাধিকার থাকা দরকার? কারণ জনসংখ্যার অনুপাতে তো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের সংখ্যা বাংলাদেশ পর্যাপ্ত নয়। আর ১৬ বছরে বাহিনীগুলোকে দলীয়করণ করার অপচেষ্টার ইতিহাসও কারও অজানা নয়।’

রাশেদ লিখেছেন, ‘যেখানে বিরোধীদলের দায়িত্ব ছিল ১৬ বছর ধরে তৈরি হওয়া জঞ্জাল, অপসংস্কৃতি, অপরাধ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দমনে সরকারকে সহযোগিতা করা, কিন্তু  উল্টো অসহযোগিতার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক করে ক্ষমতায় যেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আওয়ামী লীগ ছাত্রলীগ বাসে আগুন দিচ্ছে, ককটেল মারছে, আবার জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল এক দফার হুমকি দিয়ে রাজপথ গরম করছে।’

তার দাবি, ‘বিএনপি সরকারকে একসঙ্গে দুটি বিরোধী দলের অপতৎপরতা সামলিয়ে দেশ চালাতে হচ্ছে। এটা সরকার ও রাষ্ট্রের জন্য বড় একটা চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্মিলিতভাবে সরকারকে সহযোগিতার বিকল্প নেই।’

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে ১৩ বছর বয়সি কিশোর অপ্রতিম নিখোঁজ হয়। পরদিন (শনিবার) বেলা ১১টার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সামাজিক বনায়ন এলাকা থেকে তার মরদেহ করে পুলিশ।

নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান। তার হত্যাকাণ্ডের ঘটনা পুরো দেশ নাড়িয়ে দিয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।

এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর