জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের হলফনামার সঙ্গে আয়কর রিটার্নের তথ্য ও জামিনের সত্যায়িত কপি জমা দেওয়ার বিধানে শিথিলতা এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, প্রার্থীর স্বামী-স্ত্রী, সন্তান ও নির্ভরশীলদের আয়কর রিটার্নের তথ্য দেওয়া এবং ফৌজদারি মামলায় জামিনে থাকা প্রার্থীদের আদালতের সত্যায়িত জামিনের কপি দাখিল ঐচ্ছিক করা হয়েছে।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলগুলো আপত্তির পর পরিপত্র জারি করে হলফনামা ও প্রতীকের তালিকায় যেসকল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবার তা গেজেট প্রকাশ করে বিধিমালায় যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া কিছু করণিক ভুলও সংশোধন করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এ গেজেট প্রকাশ করা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায় সংশোধন এনে হলফনামায় প্রার্থীর স্বামী-স্ত্রী, সন্তান বা নির্ভরশীলদের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া সংক্রান্ত বিধান অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছিল। এছাড়া ফৌজদারী মামলার আসামি হিসেবে জামিন লাভের ক্ষেত্রে আদালতের সত্যায়িত কপি দেওয়ার বিধানও করা হয়েছিল। নির্বাচনের আগে এনিয়ে বিএনপি আপত্তি তুললে নির্বাচন কমিশন পরিপত্র জারি করে জানায়,হলফনামায় সর্বশেষ আয়কর রিটার্ন জমার বিবরণ অংশে প্রদত্ত ছকে স্বামী/স্ত্রী, সন্তান ও নির্ভরশীলদের আয়কর সংক্রান্ত তথা প্রদান ঐচ্ছিক মর্মে বিবেচিত হবে।
এবার ঠাকুরগাও-১ আসনের উপনির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায় সংশোধন ব্যাখ্যাটিই যোগ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, প্রার্থীর স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান ও নির্ভরশীলদের আয়কর রিটার্ন জমা সংক্রান্ত তথ্য প্রদান ঐচ্ছিক মর্মে বিবেচিত হবে। সংশোধনের আগে এটি বাধ্যতামূলক ছিল।
এছাড়া একই সংযুক্তির ক্রমিক নং ৩ এর খ-তে বিশেষ দ্রষ্টব্য অংশে বলা হয়েছে- ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে জামিনে মুক্তদের ক্ষেত্রে উপযুক্ত আদালত কর্তৃক জামিন লাভের সত্যায়িত অনুলিপি সংযুক্ত করিতে হইবে। কারা অন্তরীণদের ক্ষেত্রে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী মনোনয়নপত্রের সঙ্গে এই হলফনামাসহ যে সকল দালিলাদি ও কাগজপত্র জমা দিতে হইবে তা জেল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সত্যায়িত করিতে হইবে। এ নিয়েও দলগুলো আপত্তি তুললে এ বিধানও পরিপত্র জারি করে ঐচ্ছিক হিসেবে ব্যাখ্যা দেয় কমিশন।
সংশোধনীতে- ফৌজদারি মামলা অভিযুক্তদের আদালত থেকে জামিনের সত্যায়িত অনুলিপি “সংযুক্তি করিতে হইবে” শব্দগুলোর পরিবর্তে-“দাখিল ঐচ্ছিক মর্মে বিবেচিত হইবে” শব্দগুলো প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অর্থাৎ ফৌজদারি মামলায় অভিযুদ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে প্রার্থীদের জামিনে মুক্তিলাভের ক্ষেত্রে আদালত কর্তৃক জামিন লাভের সত্যায়িত অনুলিপি জমা না দিলেও চলবে। এখানে ৩ এর গ-তে বিশেষ দ্রষ্ট্রব্য যোগ করে- অভিযুক্ত ব্যক্তি বলিতে ঐ আসামিকে বুঝাইবে যাহার বিরুদ্ধে আদালত কর্তৃক অভিযোগ গঠিত হয়, বলা হয়েছে।
ইসির জনসংযোগ পরিচালক আব্দুল মমিন সরকার জানান, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সময় পরিপত্র জারির মাধ্যমে যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায় সংশোধন করে হালনাগাদ করা হয়েছে। এতে হলফনামায় প্রার্থীদের তথ্য দেওয়া সহজ হবে।
অন্যদিকে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার বিধি ৯ এর উপ-বিধি ১ সংশোধন করে করণীক ভুল শোধরে নেওয়া হয়েছে। এই উপবিধিতে না ভোটের জন্য ‘না’ প্রতীকসহ মোট ১২০টি সংরক্ষণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ৬০টি নিবন্ধিত দলের জন্য ৬০টি প্রতীক সংরক্ষিত। বাকিগুলো স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নিতে পারবেন। আগে বলা হয়েছে প্রতীকের তালিকা থেকে স্থগিতকৃত প্রতীক (নৌকা) ও ‘না’ ব্যতিত অন্য প্রতীকগুলো প্রাপ্যতা সাপেক্ষে বরাদ্দ করা যাবে। এক্ষেত্রে ‘না’ এই অংশ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আগের বিধান অনুযায়ী, ‘না’ প্রতীকও বরাদ্দ দিতে নিষেধ করা হয়েছিল, যা একটি করণীয়ক ভুল।
এমএইচএইচ/এমআই




