রাজধানী হাজারীবাগ থানা এলাকায় একটি পাঁচতলা বাসা থেকে রাফাসাদ মোস্তফা রুহিন (২২) নামের এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে।
হাজারীবাগ থানার উপ-পরিদর্শক(এস আই) মো. শামীম মিয়া জানান, আমরা ৯৯৯ খবর পেয়ে দুপুরে দিকে হাজারীবাগ ৪/এ নং রোডের জাহানারা মেনশন ৯/৪ বাসার পঞ্চম তলা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করি। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত শিক্ষার্থী ড্যাফোডিল ইউনিভার্সসিটির শিক্ষার্থী।
তিনি আরও জানান, আমরা স্বজনের মুখে জানতে পেরেছি নিহত রাফসাদ মোস্তফা প্রেমঘঠিত বিষয় নিয়ে নিজ ডাইনিং রুমে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে প্লাস্টিকের রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবুও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের রিপোর্ট পেলে সঠিক কারণ জানা যাবে।
নিহতের খালাতো ভাই ইমতিয়াজ কামাল জানান, গতকাল রাত ১২টার দিকেও রাফসাদের সাথে আমার ফোনে কথা হয়। তখন সে জানায়, জিম শেষ করে সে একটি সেলুনে চুল কাটতে এসেছে এবং সেখান থেকে তার বিমানবন্দরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সে আর বিমানবন্দরে যেতে পারেনি। আমাদের ধারণা গতকাল দিবাগত রাত ১টা থেকে ৩টার কোনো এক সময়ে ডাইনিং রুম সংলগ্ন একটি ছোট কক্ষে সবার চোখকে ফাঁকি দিয়ে সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস দেয়।
তিনি আরও জানান, প্রায় এক বছর ধরে একটি মেয়ের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল, মেয়েটির নাম আমরা তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারিনি। তাদের মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েন বা মনোমালিন্যের জের ধরেই সে আত্মহত্যা করেছে।
তিনি জানান, সকালে তাকে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তারা বিষয়টি স্থানীয় থানায় অবহিত করেন। পরে পুলিশ এসে দরজা ভেঙ্গে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত রাফসাদের গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ সদরের সিপাহীপাড়া এলাকায়। বর্তমানে সে রাজধানীর হাজারীবাগের ঝিগাতলা ৪/এ রোডের জাহানারা মেনশন ৯/৪ বাসার ৫ম তলার ফ্ল্যাটে মায়ের সাথে বসবাস করত। নিহত দুই ভাই সে ছিল ছোট বড় ভাই মালয়েশিয়া প্রবাসী। নিহত ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (DIU) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল।
এমএমআর/এমআই




