ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) বলেছেন, আল্লাহর মেহমান হজযাত্রীরা যাতে কোনো ধরনের কষ্ট, অবহেলা বা জুলুমের শিকার না হন, সে বিষয়ে কঠোর গুরুত্ব দিতে হবে। হাজিদের সেবায় বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করতে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ২০২৭ সালের হজ কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী ৩০টি অ্যালায়েন্স বা লিড এজেন্সির অনুকূলে হজযাত্রী কোটা বণ্টনসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পাদনের লক্ষ্যে আয়োজিত সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনার সব হজযাত্রী আমাদের। হজযাত্রীদের সেবায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সবসময় প্রস্তুত রয়েছে। হাজিদের খেদমতে যা কিছু প্রয়োজন, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। তিনি বলেন, বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোকে তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে, যাতে কোনো হাজি ভোগান্তিতে না পড়েন।
ধর্মমন্ত্রী আরও বলেন, কোনো কাজে ভুলত্রুটি হলে একে অপরের দোষ খোঁজার পরিবর্তে কীভাবে দ্রুত সমস্যার সমাধান করে সামনে এগিয়ে যাওয়া যায়, সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে এবং সৌদি আরবের বিধিবিধান যথাযথভাবে মেনে হজ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, কোনো সিদ্ধান্ত বা কাজের জন্য কেউ এলে তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করতে হবে। কাউকে অযথা ঘোরানো বা হয়রানি করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ২০২৭ সালের নিবন্ধিত কোটার সিংহভাগ বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত হবে। তাই হজ এজেন্সিগুলোর কাজের সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, আমাদের মন্ত্রণালয়ের জন্য হজ অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি আমানত। সবাইকে নিজেদের ‘খাদিম’ বা সেবক মনে করে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সফলভাবে হজ কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য তিনি সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন।
সভায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার বলেন, বর্তমানে সৌদি সরকারের প্রাথমিক নির্ধারণ অনুযায়ী বাংলাদেশের হজ কোটা ৭৮ হাজার ৫০০ জন। এই প্রাথমিক কোটা থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনার নির্ধারিত অংশ বাদ দিয়ে অবশিষ্ট কোটা বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হবে।
সভায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমআর




