রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

ডার্ক ওয়েবে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি, গ্রেফতার ৫

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম

শেয়ার করুন:

ডার্ক ওয়েবে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি, গ্রেফতার ৫

ডার্ক ওয়েবে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির অভিযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। নওগাঁ, গাজীপুর, নোয়াখালী, গোপালগঞ্জ ও ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন আব্দুস সালাম সরকার, সুব্রত চন্দ্র পাল, ইসমাইল হোসেন সোহাগ ও এসএম নাফি মেহেদী হাসান। পঞ্চম ব্যক্তির নাম র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী নিশ্চিত করে যুক্ত করতে হবে।

র‌্যাব জানিয়েছে, সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে তারা। একপর্যায়ে চক্রটির সন্ধান পেয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।

যেভাবে তথ্য বিক্রি করতেন

র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, নওগাঁ থেকে গ্রেফতার আব্দুস সালাম সরকার নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে বিক্রির উদ্দেশ্যে ই-সেবা২৪.টপ নামে একটি এনক্রিপ্টেড ওয়েবসাইট তৈরি করেন। ওই ওয়েবসাইটে অর্ডার করলে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য গ্রাহকের কাছে সরবরাহ করা হতো।

র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, আব্দুস সালাম ও তাঁর পরিচিত কয়েকজন মিলে ওয়েবসাইটটি পরিচালনা করতেন। বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমেও তাঁরা তথ্য বিক্রি করতেন। এসব তথ্যের মধ্যে ছিল মোবাইল সিমের লাস্ট কল লোকেশন, রেডিও লোকেশন, আইএমইআই সার্চ, সিডিআর, সিমের মালিকানা, মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশ ও নগদের নিবন্ধন এবং লেনদেনের তথ্য, জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধন-সংক্রান্ত তথ্যসহ নাগরিকদের বিভিন্ন গোপনীয় তথ্য।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা আরও জানান, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তাঁরা ওয়েবসাইটটি তৈরি করেন। আব্দুস সালাম নিজেই ওয়েবসাইটটির প্রশাসক ছিলেন। তিনি ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে অস্থায়ী ভিত্তিতে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত ছিলেন।

র‌্যাব জানায়, গ্রেফতার সুব্রত, ইসমাইল, নাফি ও মেহেদী ফেসবুক মার্কেটপ্লেস, বিভিন্ন ফেসবুক পেজে বিজ্ঞাপন এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অর্ডার সংগ্রহ করে নাগরিকদের গোপনীয় তথ্য বিক্রি করতেন। অর্থ লেনদেনের জন্য তাঁরা বিভিন্ন নামে-বেনামে নিবন্ধিত সিম ও মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব ব্যবহার করতেন।

র‌্যাবের ভাষ্য, তাঁরা এনআইডি, সিডিআর, লোকেশনসহ বিভিন্ন সেবার তথ্য সংগ্রহের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগাযোগ করতেন। পরে এসব তথ্য গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করা হতো। ওই টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের প্রশাসকদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অভিযান চলমান রয়েছে।

র‌্যাব আরও জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে সরকারি সার্ভার থেকে কারা অর্থের বিনিময়ে তথ্য ফাঁস করছেন, তা এখনই প্রকাশ করা যাচ্ছে না। গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এমআইকে/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর