ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী তাসলিমা ইসলামের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন আদালত। গত ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
দুদকের উপপরিচালক মশিউর রহমান এর আগে মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে নজরুল ইসলাম, তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, ফারইস্টের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের সঞ্চয়ের অর্থ দিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা এমটিডিআর (এফডিআর) থেকে অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রতিষ্ঠানের নামে অতিরিক্ত দামে জমি কিনে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন রয়েছে।
দুদকের আবেদনে আরও বলা হয়, এসব স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করা না হলে তা হস্তান্তরের আশঙ্কা রয়েছে। ফলে পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রের অনুকূলে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব নাও হতে পারে। এ কারণে সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে সম্পত্তিগুলো ক্রোকের আদেশ প্রয়োজন।
আদালত অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার আবেদন ও অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭-এর সংশোধিত ২০১৯ সালের বিধিমালার ১৮ নম্বর বিধি অনুযায়ী আবেদনে উল্লেখ করা স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেন।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, নজরুল ইসলামের নামে রাজধানীর উত্তরা, যাত্রাবাড়ী, সূত্রাপুর ও গুলশানসহ ময়মনসিংহের ভালুকা, পটুয়াখালীর কুয়াকাটা, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এবং মুন্সীগঞ্জে থাকা মোট ২০টি দলিলের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করা হয়েছে। এসব সম্পত্তির সরকারি নথিতে উল্লেখ করা ক্রয়মূল্য ৩৮ কোটি ৩৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা।
ক্রোক করা সম্পত্তির মধ্যে গুলশানে ৮ কাঠা জমির ওপর বাড়ি, যার দলিলমূল্য ১০ কোটি টাকা; কুয়াকাটায় ৬ দশমিক ১৮ একর জমি, যার দলিলমূল্য ১০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা এবং উত্তরায় ২১ দশমিক ২১ কাঠা জমি রয়েছে।
অন্যদিকে নজরুল ইসলামের স্ত্রী তাসলিমা ইসলামের নামে গুলশান, খিলক্ষেত, ক্যান্টনমেন্ট, বাড্ডা, সূত্রাপুর, টঙ্গীবাড়ী ও গাজীপুরে থাকা মোট ২২টি দলিলের স্থাবর সম্পত্তিও ক্রোকের আওতায় এসেছে। এসব সম্পত্তির সরকারি নথিতে উল্লেখ করা ক্রয়মূল্য ১৯ কোটি ২২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। এর মধ্যে গুলশান ও বাড্ডার বিভিন্ন ফ্ল্যাট ও জমি এবং খিলক্ষেতে আবাসিক প্লট ও ভবন রয়েছে।
দুদকের হিসাবে, নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর নামে থাকা ক্রোক করা স্থাবর সম্পত্তির সরকারি নথিতে উল্লেখ করা মোট ক্রয়মূল্য ৫৭ কোটি ৬১ লাখ টাকার বেশি। তবে এসব সম্পত্তির বর্তমান বাজারমূল্য আরও বেশি বলে দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদক জানিয়েছে, নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সংস্থাটির সমন্বিত জেলা কার্যালয় (সজেকা), ঢাকা-১-এ একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই একটি মামলা দায়ের করা হয়। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ওই বছরের ২৩ অক্টোবর তাকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি বিভিন্ন স্থাবর সম্পত্তির তথ্য দিয়েছেন বলে দাবি করেছে দুদক।
নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর বিদেশে থাকা সম্পত্তির বিষয়েও তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও আইনি ব্যবস্থা নিতে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সংস্থাটিতে মোট ১০টি অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি অভিযোগের তদন্ত শেষে মামলা করা হয়েছে এবং চারটি অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন।
এ ছাড়া দুদকের দায়ের করা ৩৫(০৭)২৫ নম্বর মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে নজরুল ইসলাম বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। ফারইস্টের ৪০ লাখ গ্রাহকের জমাকৃত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা আরেকটি মামলায় তদন্ত শেষে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ১ হাজার ৯৪ কোটি টাকার অভিযোগ এনে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে। আদালত অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেছেন।
একেএস/জেবি




