দেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ রাখতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগ কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয়, বরং দেশের স্বার্থেই নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ডেমরার পশ্চিম সারুলিয়ায় আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন ডিএসসিসি প্রশাসক।
তিনি বলেন, ঢাকা শহরসহ সারা দেশ ক্রমেই কংক্রিটনির্ভর হয়ে উঠছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা বায়ুদূষণের দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম দূষিত শহর হিসেবে পরিচিত। মানুষ ও যানবাহন থেকে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইডসহ বিভিন্ন বিষাক্ত গ্যাস শোষণে গাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একইসঙ্গে গাছ আমাদের অক্সিজেন সরবরাহ করে। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও মানুষের সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।
আবদুস সালাম বলেন, দখল ও দূষণের কারণে ঢাকার অনেক খাল তাদের স্বাভাবিক অস্তিত্ব হারিয়েছে। নগরের পরিবেশ সুন্দর রাখা এবং নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে খালের জায়গা কোনোভাবেই দখল করা যাবে না। খালের ওপর গড়ে ওঠা দোকানপাট সরিয়ে নিতে হবে। অন্যথায় সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সেগুলো উচ্ছেদ করা হবে।
যত্রতত্র হকার বসার বিষয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, রাজধানীর মূল সড়কে কোনো হকারকে বসতে দেওয়া হবে না। তবে হকারদের জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে। নির্দিষ্ট দিন ও নির্ধারিত এলাকায় তাদের ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হবে।
তিনি জানান, বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা বা ৯টা পর্যন্ত কিছু এলাকায় হকারদের ব্যবসা পরিচালনার ব্যবস্থা করা হবে। এ জন্য হকারদের পরিচয়পত্র বা কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আবদুস সালাম বলেন, বাড়ি, দোকান কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানের সামনে যত্রতত্র ময়লা ফেলা যাবে না। বর্তমানে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে, তাই এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ছাদ, ফুলের টব, ডাবের খোসা কিংবা অন্য কোনো স্থানে তিন-চার দিন পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না। ড্রেন পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি মশার লার্ভা যাতে জন্মাতে না পারে, সে বিষয়ে নগরবাসীকে সচেতন হতে হবে।
রাজধানীর যানজট ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ দেওয়া বন্ধ করতে হবে। তবে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করবে। এ জন্য সোলারভিত্তিক চার্জিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ঢাকা শহরকে কয়েকটি জোনে ভাগ করে নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে রিকশা চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।
রিকশাচালকদের লাইসেন্সের আওতায় আনার বিষয়ে তিনি বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশার কারিগরি সক্ষমতা পরীক্ষা করবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। বুয়েটের দেওয়া সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে সিটি করপোরেশন থেকে রিকশার লাইসেন্স দেওয়া হবে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দুর্ঘটনায় অনেক মানুষ আহত ও পঙ্গুত্বের শিকার হচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জরুরি।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নবীউল্লাহ নবী, ডেমরা থানা বিএনপির নেতাকর্মীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
এম/এএইচ




