চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩৫ বছরে উন্নীতকরণের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭ আগস্ট ২০২২, ১২:১১ পিএম
চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩৫ বছরে উন্নীতকরণের দাবি

সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩০ বছর থেকে বৃদ্ধি করে ৩৫ বছরে উন্নীতকরণের দাবি জানিয়েছে চাকরিপ্রত্যাশী যুব সমাজ, বাংলাদেশ। তারা বলেন, করোনার আঘাতে সকল বয়সী শিক্ষার্থীরা ২ বছরের অধিক সময় হারানোর পর বর্তমান যুব প্রজন্ম সাংবিধানিক অধিকার ‘সুযোগের সমতা’ বঞ্চিত। এই দুই বছরে বয়সসীমা হারিয়ে ফেলা চাকরীপ্রত্যাশী উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৫ লক্ষাধিক। উচ্চ শিক্ষা শেষ করে চাকরি না পেয়ে হতাশা থেকে এসব যুবকদের অনেকে আত্মহননের পথ বেচে নিচ্ছেন।

রোববার (৭ আগস্ট) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এই দাবি জানান।

তারা বলেন, ২০১৮ সালের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা বৃদ্ধির অঙ্গীকার উল্লেখ করা হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রায় ৪ বছর পেরিয়ে আর একটি নির্বাচন আসন্ন এমন সময়েও উক্ত ওয়াদা বাস্তবায়ন করেনি। 

তারা আরও বলেন,  জাতীয় সংসদে এখন অবধি ৭১ বার (রাষ্ট্রপতি, তৎকালীন স্পিকার আব্দুল হামিদসহ) বয়সসীমা বৃদ্ধির দাবিটি উত্থাপিত হয়েছে যার সাম্প্রতিক উদাহরণ জাতীয় পার্টির এমপি শামীম হায়দার পাটোয়ারীর বক্তব্য। বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়য়সীমা ২৭ থেকে ৩০ বছরে উন্নীত হয় এখন থেকে ৩১ বছর আগে ১৯৯১ সালে, সেটাও অন্য সরকারের আমলে। তখন গড় আয়ু ছিলো ৫৭ বছর আর এখন ৭৩। বিশ্বের ১৬২টি দেশে আমাদের চেয়ে চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা অধিক। 

নেতারা বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় যুবনীতিতে যুবকের সংজ্ঞায় ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়স বলা হচ্ছে আবার এখানে ৩০ বছরে আটকে দেওয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ। অথচ জনপ্রশাসন সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটি লিখিতভাবে বয়সসীমা ৩৫ অনুমোদন করার জন্য সুপারিশ করেছেন। শুধুমাত্র বিসিএস কোয়ালিফাই করার বয়সের তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বয়সসীমার ৩১ বছরের অচলায়তন চলমান। আবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চেয়ে ন্যূনতম তিনটি বিসিএস পরীক্ষায় কম আবেদন করতে পারেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন- চাকরিপ্রত্যাশী যুব প্রজন্মের পক্ষে মো. তানভীর হোসেন, সানিয়া সুমি, আসিফ হাসান, সাজিদ সেতু, রবিউল বনি, রাজ্জাক হাবিব, জহিরুল জনি, আনোয়ার জনি, কামরুল হাসান, কিশোর সাহা, মর্তুজা হাসান, মাহফুজ সনেট, পিন্টু সরকার, সঞ্জয় সরকার, আব্দুল গাফফার, আহসানুল বাবু, ফারহা জুবায়ের, শাওন সোমা, রেজোয়ানা সুলতানা, মইনুল হোসেন, সোহেল শেখ, শ্ৰীমান প্রমুখ।

এসএএস/এএস