বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

সরকার সংকট সামাল দিতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম

শেয়ার করুন:

সরকার সংকট সামাল দিতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটসহ দেশের বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। 

সময়ের সঙ্গে সংকট কেটে যাবে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে দেশকে জ্বালানি খাতে আরও স্বাবলম্বী করার বড় পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি ও বিভিন্ন খাতের সংকটের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে বর্তমান সময়ে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং দেশের দুটি এলএনজি টার্মিনালের একটিতে দুর্ঘটনার কারণে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

তিনি বলেন, এই সংকট হঠাৎ করে সৃষ্টি হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ না নেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে আমদানিনির্ভরতার কারণে জ্বালানি খাত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হওয়ায় তেল-গ্যাস আমদানিতেও বড় ধরনের বাধা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে দুটি এলএনজি টার্মিনালের একটিতে বৈদ্যুতিক শকের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে সেটি বিকল হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

সংকট মোকাবিলায় দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে কাজ করছে। সংকট স্থায়ী হবে না, সময়ের সঙ্গে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

এ সময় বিরোধী দলগুলোর লং মার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগকে কাজে লাগিয়ে তাদের উসকানি দেওয়া উচিত নয়। সংকট উত্তরণে সরকারের পাশে থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। লং মার্চ করে যদি গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান হতো, তাহলে সরকারি দলই সবার আগে লং মার্চ করত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই জাতীয় সংসদকে দেশের সব ধরনের আলোচনা ও মতবিনিময়ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চান তিনি। উভয় পক্ষের সংসদ সদস্যরা দেশ ও জনগণের স্বার্থে কাজ করার আন্তরিক চেষ্টা করছেন বলেও জানান তিনি।

বর্তমান সংকটের পেছনে বিগত সরকারের নীতির সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে জ্বালানি চাহিদা পূরণে আমদানির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। অতীতের কুইক রেন্টাল নির্ভরতারও সমালোচনা করে তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি সমাধান না করে বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার নামে রাষ্ট্রকে ঋণগ্রস্ত করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ও দেশে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতির ধারাবাহিকতায় মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং বর্তমান কারিগরি দুর্ঘটনা নতুন করে সংকট সৃষ্টি করেছে। এ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড হলে অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামে প্রাণ দেওয়া শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ত্যাগ অবমূল্যায়িত হবে।

ভবিষ্যৎ জ্বালানি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমদানিনির্ভরতা কমাতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দেশকে জ্বালানি উৎপাদনে আরও স্বনির্ভর করে তুলতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে।

সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং দুই বছর আগের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যারা জীবন দিয়েছেন, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের পক্ষে জনগণের রায় পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের সময় বিদ্যুৎ, জ্বালানি, শিল্প, শিক্ষা ও ব্যাংকিংসহ প্রায় প্রতিটি খাতে নানা সমস্যা ছিল। এসব সমস্যা উত্তরাধিকার হিসেবে পেলেও সরকার তা অজুহাত হিসেবে ব্যবহার না করে পরিকল্পিতভাবে সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে।

বিএনপি সরকারের অতীতের বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দলটি যখনই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে, তখনই দেশকে সংকট থেকে বের করে আনার চেষ্টা করেছে। অতীতের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বর্তমান সরকারও দেশীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে একটি সমৃদ্ধ ও শান্তিময় ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে।

টিএই/এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর