বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

‘গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১০ পিএম

শেয়ার করুন:

‘গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন’
টিআইবি আয়োজিত উন্নয়ন সাংবাদিকতা ফোরাম অব বাংলাদেশের (ডিজেএফবি) সাংবাদিকদের জন্য আয়োজিত ‘সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা ও উন্মুক্ত তথ্য’ শীর্ষক সেমিনার

গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে টিআইবির উদ্যোগে উন্নয়ন সাংবাদিকতা ফোরাম অব বাংলাদেশের (ডিজেএফবি) সাংবাদিকদের জন্য আয়োজিত ‘সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা ও উন্মুক্ত তথ্য’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, যেসব দেশে সক্রিয়ভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে, সেসব দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজ করার অপরিহার্যতাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যম অনুসন্ধানের মাধ্যমে অনিয়ম, অস্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ঘাটতি তুলে ধরতে পারলে ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকরা বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকির মুখোমুখি হন। অনেক ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় বেশি। টিআইবি সাংবাদিকদের সহযোদ্ধা হিসেবে পাশে থাকার অঙ্গীকার করছে। গণমাধ্যমের সঙ্গে টিআইবির এই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে বিশ্বাস করি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কখনো সীমাহীন নয় এবং জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে স্বাধীনতা নয়। সাংবাদিকতা পেশায় যারা আছেন, তাদের নিজেদের জবাবদিহিতা নিজেরাই নিশ্চিত করার চেষ্টা করতে হবে। একইভাবে গণমাধ্যমকেও তার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে স্বাধীনভাবে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পাশাপাশি মৌলিক দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য সামনে এনে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার ক্ষেত্রে গণমাধ্যম কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরিতে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ক্ষেত্রেও সরকার ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে কাজ করার চেষ্টা চলছে। অনেক সময় এক ধাপ এগিয়ে তিন ধাপ পিছিয়ে যেতে হয়। সাম্প্রতিক সময়েও এর অনেক দৃষ্টান্ত দেখা গেছে। তবে এ কারণে হতাশ হওয়া যাবে না। হতাশ হয়ে সাংবাদিক ও সুশাসনকামী প্রতিষ্ঠানগুলো যদি কাজ থেকে সরে যায়, তাহলে যারা দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা চায় না, সেই শক্তি বিজয়ী হবে।

টিআইবির মেঘমালা সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে উন্মুক্ত তথ্য, সরকারি ক্রয়ে উন্মুক্ত তথ্যের ব্যবহার, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় তথ্যের ব্যবহার, তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ, তথ্যচিত্র তৈরি এবং তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রশিক্ষণে টিআইবির পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, সহকারী সমন্বয়ক রিফাত রহমান, কে এম রফিকুল আলম, ডিজেএফবির সভাপতি ও প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আরিফুর রহমান, টিআইবির উপদেষ্টা-নির্বাহী ব্যবস্থাপনা ড. সুমাইয়া খায়েরসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

এএইচ/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর