বাগেরহাটে অভিযান চালিয়ে সিগারেট তৈরির মেশিন, বিপুল পরিমাণ কাটিং তামাক, ফিল্টার, ফয়েল পেপার, সিগারেট পেপারসহ উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, খুলনা।
এ সময় সিগারেট উৎপাদনের সরঞ্জাম বহনকারী দুটি ট্রাকও আটক করা হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাগেরহাট ভ্যাট বিভাগের একটি দল অভিযান চালিয়ে ট্রাক দুটি আটক করে। আটক ট্রাক দুটি হলো— বগুড়া-ট-১১-০৭১৪ এবং ঢাকা মেট্রো-ট-১৬-২৬৪০।
ট্রাক দুটিতে তল্লাশি চালিয়ে সিগারেট তৈরির মেশিন, বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম, বিপুল পরিমাণ কাটিং তামাক, সিগারেট ফিল্টার, ফয়েল পেপার, জেনারেটর, গাম, স্কচটেপ ও সিগারেট পেপারসহ উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ পাওয়া যায়।
অভিযানে একটি সেট মেকিং মেশিন, একটি সেট প্যাকিং মেশিন, ৫০টি প্লাস্টিক ক্যারেট, একটি জেনারেটর এবং ৫১ বস্তা কাটিং তামাক জব্দ করা হয়। প্রতিটি বস্তায় ২৫ কেজি করে তামাক ছিল। সব মিলিয়ে জব্দ করা কাটিং তামাকের পরিমাণ ১ হাজার ২৭৫ কেজি।
এছাড়া জব্দ করা হয়েছে ৭৬ রোল সিগারেট পেপার, পাঁচ কার্টন ফিল্টার পেপার, তিন ড্রাম গাম/আটা, ৫৪ রোল ফয়েল পেপার, ছয় বাক্স প্যাকেট তৈরির কাগজ, একটি হাওয়ার ট্যাংকি এবং ১০০ পিস স্কচটেপ।
এনবিআর জানিয়েছে, আটক করা মালামালের নমুনা প্রাথমিকভাবে যাচাই করে প্রতীয়মান হয়েছে, এগুলো সিগারেট উৎপাদনের জন্য প্রায় একটি সম্পূর্ণ কারখানা স্থাপনের উপযোগী সরঞ্জাম। অর্থাৎ শুধু তামাক বা কাঁচামাল নয়, উৎপাদন ও প্যাকেটজাতকরণের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও উপকরণও পাওয়া গেছে।
তবে এসব মালামালের প্রকৃত মালিকানা, বৈধতা এবং এগুলো কোথায় ও কী উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই চলছে।
এনবিআর জানিয়েছে, আটক দুটি ট্রাক ও জব্দ করা মালামালের বিষয়ে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই এবং আইনগত কার্যক্রম গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
একইসঙ্গে বিধি অনুযায়ী জব্দ করা মালামাল সদর দফতরের কাস্টমস গুদামে জমা দেওয়ার কার্যক্রমও চলছে।
এমআর/এএইচ




