বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

শুধু সাক্ষরতার হার বাড়ালেই শিক্ষিত সমাজ তৈরি হয় না: ববি হাজ্জাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম

শেয়ার করুন:

শুধু সাক্ষরতার হার বাড়ালেই শিক্ষিত সমাজ তৈরি হয় না: ববি হাজ্জাজ
ঢাকার পিটিআইয়ে আয়োজিত বাংলাদেশ টিএমটিই সদস্য সম্মেলন ২০২৬। ছবি: সংগৃহীত

শুধু সাক্ষরতার হার বাড়ালেই শিক্ষিত সমাজ তৈরি হয় না বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি তা বাস্তবে প্রয়োগ করতে পারবে এবং বিশ্বজ্ঞান থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য গ্রহণের সক্ষমতা অর্জন করবে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার পিটিআইয়ে আয়োজিত বাংলাদেশ টিএমটিই (ট্রেনিং অব মাস্টার ট্রেনার্স ইন ইংলিশ) সদস্য সম্মেলন ২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকের নতুন শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীদের শ্রবণ ও কথন দক্ষতা সুনির্দিষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। শুধু পড়া ও লেখার ওপর গুরুত্ব না দিয়ে শুনে বোঝা, সঠিকভাবে কথা বলা এবং নিজের ভাবনা প্রকাশের দক্ষতা গড়ে তুলতে শিক্ষাক্রমেই প্রয়োজনীয় অনুশীলন ও কার্যক্রম রাখা হবে।

তিনি বলেন, ভাষা শিক্ষার চারটি মৌলিক দক্ষতা হলো—শুনে বোঝা, বলে প্রকাশ করা, পড়ে বোঝা এবং লিখে প্রকাশ করা। এসব দক্ষতাকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের শুনে বোঝার দক্ষতা তৈরির ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। ভাষা শেখার ক্ষেত্রে শ্রবণ ও অনুশীলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ববি হাজ্জাজ বলেন, একজন বিজ্ঞানী, চিকিৎসক বা প্রকৌশলীর জন্য নিজ নিজ বিষয়ে দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিজ্ঞানী, চিকিৎসক ও প্রকৌশলী তৈরি হয় শিক্ষাব্যবস্থার মধ্য দিয়েই। তাই শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক জ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ভাষাগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দিতে হবে। বিশেষ করে ইংরেজি ভাষায় সংরক্ষিত বিপুল বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানে শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু সাক্ষরতার হার বাড়ালেই শিক্ষিত সমাজ তৈরি হয় না। আমাদের এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা জ্ঞান অর্জন করবে, সেই জ্ঞান প্রয়োগ করতে পারবে এবং বিশ্বজ্ঞান থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য গ্রহণ করতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা হতে হবে সবার অধিকার এবং সবার দুয়ারে পৌঁছে দিতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা হতে হবে দক্ষতাভিত্তিক, কর্মজীবনমুখী ও নৈতিকতাসম্পন্ন। এ লক্ষ্য অর্জনে ভাষা শিক্ষাকে শিক্ষাব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় শুধু পাঠ্যবইনির্ভর শিক্ষাদান যথেষ্ট নয়। শিক্ষার্থীদের শেখানোর ক্ষেত্রে ভিডিও, অনুশীলন খাতা, ডিজিটাল উপকরণ, খেলা ও অন্যান্য আধুনিক শিক্ষণ উপকরণ কীভাবে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে শিক্ষকদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা পরিবর্তন চাই। কিন্তু সেই পরিবর্তন হতে হবে সুনির্দিষ্ট, বাস্তবভিত্তিক ও ফলাফলনির্ভর। আপনারা কী চান, সেটি স্পষ্টভাবে বলুন। প্রয়োজনীয় পরিবর্তন নিয়ে আমরা আলোচনা করব এবং বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেব।

এমআর/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর