রাজধানীর সায়েদাবাদে দুই নারীর ঝগড়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মারামারিতে ফকির আলমগীর (৫২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি পেশায় বাসের হেলপার ছিলেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, শুক্কুর আলী নামে এক যুবকের ঘুষির আঘাতে আলমগীর রাস্তায় পড়ে যান। পরে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে বাস মালিক সমিতির কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের ছেলে রবিউল আওয়াল জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার আলীগঞ্জে। বর্তমানে তারা সায়েদাবাদের করাতিটোলা এলাকায় থাকেন। তার বাবা বাসের হেলপার হিসেবে কাজ করতেন। পাশাপাশি দিনের বেলায় ভ্যানে করে শরবত বিক্রি করতেন। তার মা টুনি আক্তার বাস মালিক সমিতির কার্যালয়ের সামনে খিচুড়ি বিক্রি করেন।
রবিউল জানান, মঙ্গলবার সকালে সমিতির কার্যালয়ের সামনে এক নারী ঝাড়ু দিচ্ছিলেন। এ সময় ওই নারীর সঙ্গে আমার মা টুনি আক্তারের তর্কাতর্কি শুরু হয়। পাশে বাবাও ছিলেন।
একপর্যায়ে ওই নারীর ছেলে শুক্কুর আলী এসে আমার বাবার সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় শুক্কুর আমার বাবার বুকে এলোপাতাড়ি ঘুষি মারেন। এতে তিনি রাস্তায় পড়ে যান। তখন রাস্তার ওপর থাকা ভাঙা ইটের একটি অংশ তার মাথায় ঢুকে গুরুতর আহত হন তিনি।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অন্তু দে প্রেম জানান, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে খিচুড়ি বিক্রেতা ও পান বিক্রেতার মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় রাস্তায় পড়ে ওই ব্যক্তি মারা যান বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনাটি বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গের রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এমএমআর/এআরএম




