চলতি সপ্তাহেই রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ থাকা ৬৬০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিত। কারিগরি ত্রুটি ও কয়লা সংকটে ইউনিটটি বন্ধ রয়েছে বলে জানান তিনি।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে ৬৮ বিধির আলোচনায় বিরোধী দলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, মেয়াদ শেষে অবসরে যাওয়া পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। এ সপ্তাহ থেকেই কোনো ধরনের ক্যাপাসিটি চার্জ না দিয়ে এসব কেন্দ্র থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে এইচএফওভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য সরকার ইতোমধ্যে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এর মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিলে মিটার ভাড়া সম্পূর্ণ মওকুফের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সরকারের প্রায় ২৯ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। পুরো মিটার ভাড়া মওকুফ করা সম্ভব না হলেও গ্রাহক নিজ খরচে মিটার কিনে নিলে তাকে আর মাসিক ভাড়া দিতে হবে না।
ভুতুড়ে বিল ও বিলিংয়ের অনিয়ম বন্ধে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের অধিকাংশ বিদ্যুৎ গ্রাহককে স্মার্ট প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।
গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ বছরের মধ্যেই দুটি নতুন এফএসআরইউ চুক্তির পাশাপাশি মাতারবাড়িতে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনালের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সমুদ্র ও স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধান জোরদারে অফশোর বিডিং রাউন্ডের পাশাপাশি ১০৬টি কূপ খনন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি কূপের কাজ মাঠপর্যায়ে চলছে। জ্বালানি তেলের শোধন সক্ষমতা বাড়াতে ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর ফলে ক্রুড অয়েল পরিশোধনের সক্ষমতা বর্তমানের ১৫ লাখ টন থেকে তিনগুণ বেড়ে ৪৫ লাখ টনে উন্নীত হবে বলে জানান তিনি।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে শিল্পোদ্যোক্তা ও আমদানিকারকদের মাত্র ১ শতাংশ শুল্কে রুফটপ সোলার প্যানেল আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ছয় মাসের জন্য অগ্রিম আয়কর ও ভ্যাট মওকুফের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। উৎপাদিত অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে সরকারের কাছে বিক্রির সুবিধাও চালু করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে অতিরিক্ত ১৫ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয় হলেও ২০৩০ সাল নাগাদ দেশের জ্বালানি খাত সম্পূর্ণরূপে সংকটমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।
বিগত সরকারের ভুল নীতি, অব্যবস্থাপনা ও অদূরদর্শিতার কারণে বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে দাবি করে তিনি আরও বলেন, সংকট থেকে উত্তরণে সরকারের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে।
টিএই/এএইচ




