ঢাকা সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশি এলাকায় পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসনেকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় এখন পর্যন্ত ৯ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য জানান র্যাব-১০ এর অধিনায়ক মোহা. আসাদুজ্জামান।
গ্রেফতাররা হলেন— আলাউদ্দিন, জেহাদ, ইমরান, আপন, নূর মোহাম্মদ রুদ্র, মো. রাকিব মিয়া, ছাব্বির আহম্মেদ, ওয়াসিম ও জহিরুল ইসলাম।
র্যাব জানায়, রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় র্যাব-১০ মুন্সিগঞ্জের লঞ্চ ঘাট থেকে প্রথমে দুইজনকে এরপর লঞ্চ ঘাট থেকে এক কিলোমিটার দূরে আরও দুইজনকে গ্রেফতার করে। এছাড়াও, আমিনবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও চারজনকে গ্রেফতার করে র্যাব-৪। সব মিলিয়ে হত্যা মামলায় ১৫ জন আসামির মধ্যে মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। এর আগে, প্রাইভেটকার চালক জহিরুল ইসলামকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মোহা. আসাদুজ্জামান জানান, ঢাকার সাভার আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) এসআই আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টা থেকে ১১টার মধ্যে আমিনবাজারের বরদেশী এলাকায় একটি প্রাইভেটকারের চালক এবং তার কয়েকজন সহযোগীসহ একজন অটোরিকশা গ্যারেজের মালিককে মারধর করার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায় যে, ঘটনার রাতে একটি অটো রাখাকে কেন্দ্র করে অটোরিকশা গ্যারেজের মালিককে মারধর করার সময় এসআই আলতাফ হোসেন তার প্রতিবাদ করেন। এসময় গ্যারেজের মালিককে মারধরকারীদের সাথে এসআই আলতাফ হোসেন ও তার ছেলের বাকবিতণ্ডা হয়। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এসআই আলতাফ হোসেন নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। এতে আসামিরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠলে প্রাণ বাঁচাতে এসআই আলতাফ হোসেন দৌঁড়ে তার ছেলের পোশাক কারখানার ভেতরে আশ্রয় নেন। কিন্তু হামলাকারীরা সেখানেও চড়াও হয়। তারা আরও ১৫ থেকে ২০ জন সহযোগীকে ডেকে এনে কারখানার গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
তিনি আরও জানান, আসামিরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে এসআই আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে আরিফুলকে বেধড়ক মারধর করে এবং কারখানার ভেতরে থাকা মেশিন ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক এসআই আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় মুন্সীগঞ্জ জেলার সদরের লঞ্চঘাট এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে হত্যা কাণ্ডের সাথে জড়িত এজাহারনামীয় ৪ জন আসামিকে ঘটনার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এছাড়াও একই ঘটনায় র্যাব-৪ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাভারের আমিনবাজার এলাকায় অভিযান করে ৪ জন এজাহারনামীয় আসামিদের গ্রেফতার করেতে সক্ষম হয়।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আসামিদের গ্রেফতারের পর তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
একেএস/এএস




