নারীর শান্তি ও নিরাপত্তা (ডব্লিউপিএস) এজেন্ডা এগিয়ে নেওয়া শুধু বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতিই নয়, বরং এটি একটি নৈতিক দায়িত্ব ও অংশীদারত্ব। সংশ্লিষ্ট সব অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে এই এজেন্ডা এগিয়ে নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পররাষ্ট প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এসব কথা বলেন।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৩২৫ নম্বর প্রস্তাবনায় বাংলাদেশের অগ্রণী ভূমিকার কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডব্লিউপিএস এজেন্ডার প্রতি সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে তিনি বলেন, জাতিসংঘের নারীবিষয়ক সংস্থা ‘ইউএন উইমেন’-এর সহায়তায় ২০১৯-২০২৫ মেয়াদের প্রথম জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (এনএপি) পর্যালোচনার কাজ চলছে।
এ সময় তিনি নারীদের শিক্ষা ও ক্ষমতায়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিভিন্ন সময়োপযোগী পদক্ষেপের কথা স্মরণ করেন। পাশাপাশি শিক্ষা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের গৃহীত উদ্যোগগুলো তুলে ধরেন। তিনি আরও একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বাস্তবসম্মত ও পরিমাপযোগ্য দ্বিতীয় পাঁচ বছর মেয়াদী নতুন জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রওশন আরা বেগম। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আগামী প্রজন্মের জন্য তৈরি হতে যাওয়া এনএপি যেন সুনির্দিষ্ট নকশাকৃত, পর্যাপ্ত অর্থায়নপ্রাপ্ত, কার্যকর সমন্বয়যুক্ত এবং শেষ পর্যন্ত নারীদের মালিকানায় পরিচালিত হতে পারে।
আরও পড়ুন
নারীর সমঅধিকার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে: শামা ওবায়েদ
নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় বৃহত্তর সমাজকে যুক্ত করতে হবে: দেবপ্রিয়
এর আগে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশে ইউএন উইমেনের প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিং। তিনি বলেন, বাংলাদেশের শক্তিশালী ডব্লিউপিএস ভিত্তির ওপর ভর করে আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। নতুন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, নারীদের নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, পরিমাপযোগ্য ফলাফল এবং জবাবদিহিতার ওপর বাড়তি নজর দেওয়ার আহ্বান জানাই।
‘ডব্লিউপিএস বিষয়ক বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী এই কর্মশালার যৌথ আয়োজক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ইউএন উইমেন বাংলাদেশ। আগামীকাল সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) কর্মশালাটি শেষ হবে।
বিকাশমান জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি নতুন প্রজন্মের ডব্লিউপিএস কাঠামো গঠনে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় দল এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সুনির্দিষ্ট মতামত ও অবদান রাখার সুযোগ তৈরিতে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।
এসএইচ/এফএ




