রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

প্রমোশন কোটা বাতিলসহ ৬ দফা দাবিতে প্রকৌশলী শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৩ পিএম

শেয়ার করুন:

প্রমোশন কোটা বাতিলসহ ৬ দফা দাবিতে প্রকৌশলী শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) প্রস্তাবিত সার্ভিস রুলস-২০২৬ থেকে প্রমোশনাল কোটা বাতিলসহ ছয় দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছেন প্রকৌশলী শিক্ষার্থীরা।  একই সঙ্গে উপ-সহকারী প্রকৌশলী থেকে সহকারী প্রকৌশলী পদে প্রমোশনাল কোটা ৩৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা এবং সহকারী প্রকৌশলী থেকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পদে ৩৩ শতাংশ কোটা রাখার দাবির বিরোধিতা করেছেন তারা।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনের সামনে ‘প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলন’ আয়োজিত মানববন্ধনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। কর্মসূচি শেষে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কথা জানান সংগঠনটির নেতারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী থেকে সহকারী প্রকৌশলী পদে ৩৩ শতাংশ প্রমোশনাল কোটা ইতোমধ্যে কার্যকর রয়েছে। এই কোটা ৫০ শতাংশে উন্নীত করার দাবি প্রকৌশল পেশায় মেধা, যোগ্যতা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতার সুযোগকে সংকুচিত করবে। একই সঙ্গে সহকারী প্রকৌশলী থেকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পদে ৩৩ শতাংশ প্রমোশনাল কোটা রাখার দাবিও তারা প্রত্যাখ্যান করেন।

797903138_1979753136069316_5536546490768710953_n

তাদের দাবি, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণসহ গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি দায়িত্বে নিয়োজিত প্রকৌশলীদের নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রকৌশলগত জ্ঞান, পেশাগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, সহকারী প্রকৌশলী পদে সরাসরি নিয়োগের সুযোগ কমিয়ে প্রমোশনাল কোটা বাড়ানো হলে প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকৌশল শিক্ষা সম্পন্ন করা তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হবে। এতে বিদ্যুৎ খাতে মেধাভিত্তিক ও প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগব্যবস্থা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মানববন্ধনে প্রস্তাবিত সার্ভিস রুলস-২০২৬-এ সহকারী প্রকৌশলী ও উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পদকে একত্র করে পদোন্নতির কোটা নির্ধারণের দাবিরও বিরোধিতা করা হয়। বক্তারা বলেন, পৃথক বেতন-গ্রেড, পদোন্নতির ধাপ ও জ্যেষ্ঠতা কাঠামোর কারণে পদগুলোকে পৃথক হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন।

এ সময় ১৯৭৮ সালের অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি অফিস আদেশের আইনগত ভিত্তি, এখতিয়ার, প্রক্রিয়াগত বৈধতা ও বর্তমান প্রয়োগযোগ্যতা পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, নিয়োগ ও পদোন্নতির নীতি নির্ধারণে সাংবিধানিক সমতা, মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতা, প্রাসঙ্গিক শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রশাসনিক ন্যায়নীতি নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, উপ-সহকারী প্রকৌশলী থেকে সহকারী প্রকৌশলী পদে প্রমোশনাল কোটা ৩৩ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ করা এবং সহকারী প্রকৌশলী থেকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পদে ৩৩ শতাংশ প্রমোশনাল কোটার দাবি প্রত্যাখ্যান; সার্ভিস রুলস-২০২৬ থেকে সব ধরনের কোটাপ্রথা বিলুপ্ত করা; ১৯৭৮ সালের সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশের আইনগত ভিত্তি ও বর্তমান প্রয়োগযোগ্যতা যাচাই করা; সহকারী প্রকৌশলী পদে সরাসরি নিয়োগের সুযোগ অযৌক্তিকভাবে সংকুচিত না করা; গোষ্ঠীগত চাপের ভিত্তিতে নিয়োগ ও পদোন্নতির নীতি নির্ধারণ না করা এবং সব নিয়োগ ও পদোন্নতি নীতি মেধা ও যোগ্যতাভিত্তিক করা।

মানববন্ধনে প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের সভাপতি এম ওয়ালি উল্লাহ, সিনিয়র সহসভাপতি সাকিল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক সাকিবুল হক লিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক সিহাব আহমেদসহ শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, প্রকৌশল পেশার মান, বিদ্যুৎ খাতের পেশাগত ভারসাম্য ও মেধাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থা সুরক্ষায় তাদের দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় ন্যায্য অধিকার ও পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় আইনসম্মত ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

এমআর/এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর