গাছের নিচে তখন নিস্তব্ধতা। চারপাশে ব্রিটিশ সৈন্যদের কড়া পাহারা। কিছুক্ষণ আগেও যারা ছিলেন বিদ্রোহী সিপাহি, এবার তারা মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায়। একে একে তাঁদের ঝুলিয়ে দেওয়া হলো। ঢাকার যে জায়গাটিতে এই ফাঁসি কার্যকর হয়েছিল, এক শতাব্দী পর সেই জায়গার নামই হয়ে যাবে শেষ মোগল সম্রাটের নামে।
১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পর ব্রিটিশদের হাতে প্রাণ হারানো সেই বিদ্রোহীদের স্মৃতি আজও বহন করছে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক। তবে জায়গাটির নাম সবসময় ‘বাহাদুর শাহ পার্ক’ ছিল না। একসময় এটি পরিচিত ছিল ‘আন্টাঘর ময়দান’ নামে। পরে ব্রিটিশ শাসনামলে নাম হয় ‘ভিক্টোরিয়া পার্ক’ রানি ভিক্টোরিয়ার নামে।
কিন্তু ইতিহাসের অদ্ভুত পরিহাস, যে ব্রিটিশ শাসনের প্রতীক হিসেবে জায়গাটির নাম হয়েছিল ভিক্টোরিয়া পার্ক, প্রায় একশ বছর পর সেই নামই বদলে যায়। ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের শতবর্ষে, ১৯৫৭ সালে, পার্কটির নাম রাখা হয় ‘বাহাদুর শাহ পার্ক’ সেই শেষ মোগল সম্রাটের নামে, যাঁর নাম ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।
একটি পার্কের নাম বদলের ভেতরে আছে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন, সিপাহি বিদ্রোহের রক্তাক্ত স্মৃতি, শেষ মোগল সম্রাটের পতন এবং এক শতাব্দী পর সেই ইতিহাসকে নতুন করে স্মরণ করা।
আন্টাঘর ময়দান থেকে শুরু
পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে অবস্থিত বর্তমান বাহাদুর শাহ পার্কের ইতিহাস ব্রিটিশ আমলেরও আগে থেকে শুরু। জায়গাটি একসময় ছিল আর্মেনীয় সম্প্রদায়ের সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত একটি স্থান।
ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, এখানে আর্মেনীয়দের একটি ক্লাব ছিল। সেটি ‘আন্টাঘর’ নামে পরিচিত ছিল। ক্লাবে বিলিয়ার্ডসহ বিভিন্ন ধরনের ইনডোর খেলার আয়োজন হতো। পরবর্তী সময়ে ক্লাবটি ভেঙে গেলে এর আশপাশের খোলা জায়গা ‘আন্টাঘর ময়দান’ নামে পরিচিতি পায়।
উনিশ শতকের প্রথমার্ধে ঢাকার অন্যতম প্রভাবশালী জমিদার খাজা আবদুল গনি এই জায়গাটিকে একটি পার্ক হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। তখন পুরান ঢাকা ছিল প্রশাসন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও ইউরোপীয় এবং স্থানীয় অভিজাত সমাজের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
সময়ের সঙ্গে আন্টাঘর ময়দানও নগরজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।
কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যেই জায়গাটির ইতিহাসে এমন একটি অধ্যায় যুক্ত হয়, যা পরবর্তী দেড় শতাব্দী ধরে এর পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকবে।

১৮৫৭: বিদ্রোহের আগুন ঢাকায়
১৮৫৭ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের বিরুদ্ধে ভারতীয় সিপাহিদের বিদ্রোহ শুরু হয়। মিরাট থেকে শুরু হয়ে বিদ্রোহ দ্রুত দিল্লি এবং উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
বিদ্রোহীরা দিল্লিতে শেষ মোগল সম্রাট বাহাদুর শাহ দ্বিতীয়কে প্রতীকী নেতা হিসেবে সামনে নিয়ে আসেন। এর ফলে বিদ্রোহ শুধু সামরিক বিদ্রোহের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; ব্রিটিশবিরোধী বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রতিরোধের রূপও পেতে শুরু করে।
ঢাকাতেও এর প্রভাব পড়ে। লালবাগ দুর্গে অবস্থানরত সিপাহিদের একটি অংশ বিদ্রোহের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল বলে ঐতিহাসিক সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। তবে ঢাকার বিদ্রোহ দ্রুত দমন করে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ। এরপর শুরু হয় কঠোর দমন-পীড়ন।
আন্টাঘর ময়দান হয়ে উঠল মৃত্যুর স্থান
বিদ্রোহ দমনের পর আটক করা সিপাহিদের অনেককেই কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়। তাঁদের কয়েকজনকে প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়া হয় বর্তমান বাহাদুর শাহ পার্কের এলাকায়।
বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের সময় এই স্থানে কয়েকজন বিদ্রোহীকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে একজন নারীও ছিলেন বলে ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ আছে।
সেই সময় প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার একটি উদ্দেশ্য ছিল ভয় সৃষ্টি করা যাতে অন্য কেউ ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার সাহস না পায়।
ফলে আন্টাঘর ময়দান তখন আর কেবল একটি খোলা জায়গা ছিল না। এটি হয়ে ওঠে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাস্তির একটি দৃশ্যমান প্রতীক।
আর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বৈপরীত্যটি এখানেই। কারণ এর পরের বছরই এই একই জায়গা প্রত্যক্ষ করে ব্রিটিশ শাসনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

১৮৫৮: একই জায়গায় রানি ভিক্টোরিয়ার ঘোষণা
১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন নিয়ে আসে।
এর আগে ভারত শাসন করত ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। বিদ্রোহের পর কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে এবং ভারতের শাসনভার সরাসরি ব্রিটিশ ক্রাউনের হাতে চলে যায়।
১৮৫৮ সালের রানি ভিক্টোরিয়ার ঘোষণার মাধ্যমে এই নতুন শাসনব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।
ঢাকার ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, বর্তমান বাহাদুর শাহ পার্কের জায়গায় একটি জনসমাবেশে রানি ভিক্টোরিয়ার ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়েছিল।
অর্থাৎ মাত্র এক বছর আগে যে জায়গায় ব্রিটিশবিরোধী বিদ্রোহীদের ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল, সেখানেই এবার ঘোষণা করা হলো ব্রিটিশ রানির সরাসরি শাসনের কথা। এক পাশে বিদ্রোহ দমনের স্মৃতি, অন্য পাশে ঔপনিবেশিক শাসনের আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা।
এরপর নাম হলো ভিক্টোরিয়া পার্ক
রানি ভিক্টোরিয়ার নামের সঙ্গে জায়গাটির পরিচয় ধীরে ধীরে আরও দৃঢ় হয়। পরবর্তী সময়ে আন্টাঘর ময়দান পরিচিত হয়ে ওঠে ‘ভিক্টোরিয়া পার্ক’ নামে।
ব্রিটিশ শাসনামলে এটি পুরান ঢাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্মুক্ত স্থান হয়ে ওঠে। চারপাশে গড়ে ওঠে আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।
পার্কটির ভেতর ও আশপাশে স্থাপিত বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন এর ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ করে।
একদিকে রানি ভিক্টোরিয়ার নামে বহন করছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের স্মৃতি, অন্যদিকে একই জায়গা ধারণ করছিল ব্রিটিশবিরোধী ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহীদের স্মৃতি। ফলে পার্কটির ইতিহাসে পাশাপাশি জায়গা করে নেয় শাসন ও প্রতিরোধের দুই অধ্যায়।

শেষ মোগল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফর
এই জায়গার পরবর্তী নামের সঙ্গে যাঁর নাম যুক্ত হয়, তিনি বাহাদুর শাহ দ্বিতীয় ইতিহাসে যিনি বাহাদুর শাহ জাফর নামে বেশি পরিচিত। তিনি ছিলেন মোগল সাম্রাজ্যের শেষ সম্রাট।
তবে তিনি এমন সময়ে সিংহাসনে ছিলেন, যখন মোগল সম্রাটের রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রায় দিল্লির প্রাসাদ ও তার আশপাশের এলাকায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছিল। প্রকৃত ক্ষমতা তখন ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে।
১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের সময় দিল্লির বিদ্রোহীরা তাঁকে তাঁদের প্রতীকী নেতা হিসেবে গ্রহণ করে। ফলে বিদ্রোহের রাজনৈতিক বৈধতার প্রতীক হয়ে ওঠেন তিনি।
বিদ্রোহ ব্যর্থ হওয়ার পর ব্রিটিশরা তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে বিচার হয় এবং তাঁকে ভারত থেকে নির্বাসিত করে রেঙ্গুনে পাঠানো হয়। সেখানেই ১৮৬২ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।
তাই বাহাদুর শাহ জাফরের নামের সঙ্গে একই সঙ্গে জড়িয়ে আছে মোগল সাম্রাজ্যের শেষ অধ্যায় এবং ১৮৫৭ সালের ব্রিটিশবিরোধী বিদ্রোহের স্মৃতি।
একশ বছর পর বদলে গেল ‘ভিক্টোরিয়া’ নাম
১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের শতবর্ষ আসে ১৯৫৭ সালে।
এই সময় উপমহাদেশের বিভিন্ন জায়গায় বিদ্রোহের ইতিহাস নতুন করে আলোচনায় আসে। ঢাকাতেও ১৮৫৭ সালের ঘটনাগুলোর স্মৃতি সামনে আনা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ভিক্টোরিয়া পার্কের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘বাহাদুর শাহ পার্ক’।
অর্থাৎ ১৮৫৭ সালের একশ বছর পর একই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত দুই প্রতীকের মধ্যে নামের পালাবদল ঘটে।
একসময় ব্রিটিশ শাসনের রানি ভিক্টোরিয়ার নামে পরিচিত জায়গাটি এবার নাম ধারণ করল সেই মোগল সম্রাটের, যাঁকে ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহীরা প্রতীকীভাবে নেতৃত্বের আসনে বসিয়েছিলেন।
এই নাম পরিবর্তন ছিল ঔপনিবেশিক ইতিহাসকে নতুনভাবে স্মরণ করার একটি রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বার্তা।
স্মৃতিস্তম্ভে ফিরে আসে বিদ্রোহীদের কথা
নাম পরিবর্তনের সঙ্গে জায়গাটির ঐতিহাসিক স্মৃতিও নতুন করে সামনে আসে।
বাহাদুর শাহ পার্কে ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহে নিহত সিপাহিদের স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে। পার্কের ভেতরে থাকা এই স্মৃতিচিহ্ন আজও দর্শনার্থীদের মনে করিয়ে দেয়, জায়গাটির সঙ্গে ব্রিটিশবিরোধী বিদ্রোহের রক্তাক্ত ইতিহাস সরাসরি যুক্ত।
এ ছাড়া পার্কে রয়েছে খাজা হাফিজুল্লাহর স্মরণে নির্মিত একটি ওবেলিস্ক। উনিশ শতকের এই স্মৃতিস্তম্ভ পুরান ঢাকার অভিজাত সমাজ ও ঔপনিবেশিক সময়ের আরেকটি স্মৃতি বহন করছে। ফলে পার্কের ভেতরের স্থাপনাগুলোও যেন ভিন্ন ভিন্ন সময়ের ইতিহাসের দলিল।
শুধু ১৮৫৭ নয়, পরবর্তী ইতিহাসেরও সাক্ষী
বাহাদুর শাহ পার্কের গুরুত্ব শুধু ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহে সীমাবদ্ধ নয়। পুরান ঢাকার শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতি ও নাগরিক জীবনের বিকাশের সঙ্গেও জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত।
চারপাশে গড়ে ওঠা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর কারণে এটি পুরান ঢাকার একটি পরিচিত স্থান হয়ে ওঠে।
সময়ের সঙ্গে পার্কের ব্যবহারও বদলায়। নগরায়ণের চাপ বাড়তে থাকে। চারপাশে ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বাড়ে। যানবাহন ও মানুষের চলাচলও কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
একসময় যে জায়গাটি ছিল তুলনামূলকভাবে খোলা প্রান্তর, আধুনিক ঢাকায় সেটিই হয়ে ওঠে ঘনবসতিপূর্ণ পুরান ঢাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সবুজ পরিসর।

সংস্কার হয়েছে, কিন্তু ইতিহাস রয়ে গেছে
সময় গড়ানোর সঙ্গে পার্কটির অবকাঠামোও সংস্কার করা হয়েছে। হাঁটার পথ, বসার জায়গা, আলোকসজ্জা, সবুজায়নসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজ হয়েছে। কিন্তু আধুনিকায়নের মধ্যেও পার্কটির সবচেয়ে বড় সম্পদ তার ইতিহাস।
এটি এমন একটি স্থান, যেখানে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে একদিকে দেখা যায় ঔপনিবেশিক শাসনের দমননীতি, অন্যদিকে সেই শাসনের আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা; আবার একশ বছর পর সেই শাসনের প্রতীকের নাম সরিয়ে দেওয়া হয় এবং ফিরে আসে ব্রিটিশবিরোধী বিদ্রোহের সঙ্গে যুক্ত একটি নাম।
ভিক্টোরিয়া থেকে বাহাদুর শাহ কেন গুরুত্বপূর্ণ
‘ভিক্টোরিয়া পার্ক’ নামটি ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের একটি প্রতীকী স্মারক। রানি ভিক্টোরিয়ার নামে নামকরণ করা হয়েছিল এমন এক সময়ে, যখন ভারত সরাসরি ব্রিটিশ ক্রাউনের অধীনে চলে যায়। অন্যদিকে ‘বাহাদুর শাহ পার্ক’ নামটি ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের স্মৃতি সামনে আনে।
একটি নামের মধ্যে ছিল ঔপনিবেশিক শাসকের স্মৃতি। অন্য নামের মধ্যে ছিল সেই শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের প্রতীক। তাই ১৯৫৭ সালের নাম পরিবর্তনকে শুধু একটি পার্কের নাম বদল হিসেবে দেখলে এর ঐতিহাসিক তাৎপর্যের বড় অংশই বাদ পড়ে যায়।
আজকের ব্যস্ততার আড়ালে পুরোনো ইতিহাস
আজ বাহাদুর শাহ পার্কের চারপাশে মানুষের ব্যস্ততা। শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করেন, ব্যবসায়ীরা দোকান খোলেন, রিকশা-বাস চলে, পথচারীরা দ্রুত পার হয়ে যান।
অনেকের কাছে এটি কেবল পুরান ঢাকার পরিচিত একটি জায়গা। কিন্তু এই পরিচিত নামটির পেছনে রয়েছে দেড় শতাব্দীর বেশি সময়ের ইতিহাস।
একসময় এখানে ছিল ‘আন্টাঘর ময়দান’। ব্রিটিশ শাসনে সেটি হলো ‘ভিক্টোরিয়া পার্ক’। ১৮৫৭ সালে এখানে বিদ্রোহীদের ফাঁসি দেওয়া হলো। ১৮৫৮ সালে একই জায়গায় ব্রিটিশ রানির শাসনের ঘোষণা পাঠ করা হলো। আর ১৯৫৭ সালে সেই ভিক্টোরিয়া পার্কের নাম বদলে রাখা হলো ‘বাহাদুর শাহ পার্ক’।
এম/এএইচ



