প্যাকেটজাত খাবারে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও চর্বির স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে ভোক্তাদের সচেতন করতে এবং প্যাকেটের সামনের অংশে সহজ ও স্পষ্ট সতর্কবার্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন। এ দাবিকে জনপর্যায়ে তুলে ধরতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে ‘শালুকডাঙার কথা’ পথনাটক পরিবেশন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নাট্য সংসদ।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের উদ্যোগে এবং গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের সহযোগিতায় এ পথনাটক পরিবেশিত হয়।
নাটকে প্যাকেটজাত খাবারের আকর্ষণীয় মোড়ক ও বিজ্ঞাপনের প্রভাব, শিশু ও তরুণদের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এবং অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবারের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তুলে ধরা হয়।
‘শালুকডাঙার কথা’ নাটকের মাধ্যমে দেখানো হয়, প্যাকেটজাত খাবার কেনার সময় অনেক ভোক্তা পণ্যের পুষ্টিগত ঝুঁকি সহজে বুঝতে পারেন না। এ অবস্থায় প্যাকেটের সামনের অংশে সহজ, স্পষ্ট ও দৃশ্যমান সতর্কবার্তা থাকলে ভোক্তারা অল্প সময়ের মধ্যে পণ্যে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও চর্বির উপস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নিয়ে সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, এফওপিএল কোনো খাবার নিষিদ্ধ করার জন্য নয়। এটি ভোক্তার জানার অধিকার নিশ্চিত করা এবং ভোক্তার স্বাস্থ্য সুরক্ষার একটি কার্যকর নীতিগত ব্যবস্থা। পণ্যের পুষ্টিগত ঝুঁকি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সহজভাবে জানার সুযোগ থাকলে ভোক্তারা নিজেদের ও পরিবারের জন্য আরও সচেতনভাবে খাদ্য নির্বাচন করতে পারবেন।
ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের উপপরিচালক মোখলেছুর রহমান বলেন, যেকোনো উদ্দেশ্য সবার কাছে পৌঁছে দিতে তরুণেরা সব সময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে এসেছে। নিরাপদ খাবারের এই আন্দোলনেও তরুণেরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে এবং তা সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নেবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নাট্য সংসদ দীর্ঘদিন ধরে নাটক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রেখে আসছে। ‘শালুকডাঙার কথা’ সেই ধারাবাহিকতায় জনস্বাস্থ্য, নিরাপদ প্যাকেটজাত খাদ্য ও ভোক্তার অধিকারকে তরুণদের সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরেছে।
ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন মনে করে, এফওপিএল বাস্তবায়ন শুধু একটি নীতিগত বিষয় নয়, এটি জনস্বাস্থ্য ও ভোক্তার অধিকার রক্ষার বিষয়। এ বিষয়ে জনসমর্থন গড়ে তুলতে তরুণ সমাজ ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে গণমাধ্যম, স্বাস্থ্যকর্মী, নাগরিক সমাজ ও সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
নাট্য পরিবেশনের মাধ্যমে তরুণদের কণ্ঠে এফওপিএল বাস্তবায়নের দাবি, ভোক্তার তথ্য জানার অধিকার এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্য পরিবেশের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নাট্য সংসদ মনে করে, সংস্কৃতিকে জনস্বাস্থ্যবিষয়ক প্রচারের সঙ্গে যুক্ত করে এ ধরনের উদ্যোগ নীতিনির্ধারকদের কাছে জনদাবিকে আরও দৃশ্যমান ও শক্তিশালী করতে পারে।
এএইচ/এএইচ




