বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন দীর্ঘদিনের। এই সম্প্রীতিই দেশের শক্তি বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতিই বাংলাদেশের শক্তি। বিভেদ সৃষ্টির কোনো সুযোগ এ দেশের মানুষ কখনো দেবে না।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর স্বামীবাগে শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫২তম শুভ জন্মাষ্টমী মহোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির ঐতিহ্য বহুদিনের। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক স্বার্থে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা হলেও সাধারণ মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক ও ঐক্য ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন সময়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার ঘটনা সামনে এলেও এসবের সঙ্গে দেশের সাধারণ মানুষের কোনো সম্পর্ক নেই। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য বিভেদের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করেছে।
বাংলাদেশের পারিবারিক, সামাজিক ও প্রতিবেশী সম্পর্কের ভিত্তি সম্প্রীতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে বিদ্বেষ নয়, বরং পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহাবস্থানই এ দেশের মানুষের বৈশিষ্ট্য।
গত ৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতি প্রসঙ্গে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে নানা আলোচনা ও গুজব ছড়ানো হলেও বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। দেশের মন্দির, মসজিদ, প্যাগোডা ও গির্জাগুলোতে সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রয়েছে। সাধারণ মানুষ সবসময় ধর্মীয় উপাসনালয়ের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে।
দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, প্রায় ১৮ থেকে ২০ কোটি মানুষের এই ঘনবসতিপূর্ণ দেশে বিভাজনের রাজনীতি কোনোভাবেই কাম্য নয়। ধর্ম, বয়স, পেশা ও মতের পার্থক্য ভুলে দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
নেতৃত্বের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সমালোচনা গ্রহণের মানসিকতা, ধৈর্য ও সহনশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের প্রতিটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও সংস্কারে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। মসজিদ, মন্দির, গির্জা কিংবা অন্য যেকোনো উপাসনালয়, সব ধর্মের মানুষের অধিকার সমানভাবে সুরক্ষিত থাকবে।
এ সময় ইসকনের অরাজনৈতিক অবস্থানকে তাদের অন্যতম শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি এবং সবাইকে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ইসকন বাংলাদেশের সহ-সভাপতি অদ্বৈত নবদ্বীপ স্বামী মহারাজ।
এমআর/এআরএম




