বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

বঙ্গবন্ধু ট্রাস্টের নামে ২৭৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ, মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম

শেয়ার করুন:

বঙ্গবন্ধু ট্রাস্টের নামে ২৭৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ, মামলা
সংবাদ সম্মেলনে দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান। ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে ২৭৬ কোটি টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুদক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান।

এদিকে, দুদক সূত্রে জানা যায়, ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ অভিযোগে দুদকের ঢাকা জেলা কার্যালয়, শাখা-১-এ শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে।

দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান জানান, অনুসন্ধানকালে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সভাপতি শেখ হাসিনা এবং ট্রাস্টের সহসভাপতি শেখ রেহানা মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ট্রাস্ট সম্পত্তির দলিল নং-৩০৪১-এর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট গঠন করেন। প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টিদের মধ্যে শেখ হাসিনা আজীবন সভাপতি এবং তাঁর অনুপস্থিতিতে শেখ রেহানা সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন বলে দলিলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটির সমাজসেবা অধিদপ্তর ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও ৪১টি তফসিলি ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড থেকে ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা অবৈধভাবে গ্রহণ করে রাষ্ট্রীয় আর্থিক ক্ষতি সাধন করা হয়েছে।

এ ছাড়া এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক সভাপতি-বিএবি নজরুল ইসলাম মজুমদার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অনুকূলে অর্থ প্রদানের জন্য বিএবির নির্বাহী কমিটির সভায় আলোচ্যসূচিতে না থাকা সত্ত্বেও বিষয়টি বিবিধ আলোচনায় উপস্থাপন করেন। পরে বিভিন্ন নির্বাহী কমিটির সভার মাধ্যমে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টে টাকা প্রদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সিদ্ধান্তের আলোকে ট্রাস্টে টাকা প্রদানের জন্য বিভিন্ন ব্যাংকে চিঠি দেওয়া হয়।

তিনি সংবাদ সম্মেলনে আরও জানান, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অপরাধমূলক অসদাচরণের মাধ্যমে অসৎ উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট নামীয় একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। প্রতিশ্রুত কোনো কার্যক্রম না করেই বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করে এবং অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড থেকে ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা তহবিল সংগ্রহ করেন। এর মাধ্যমে অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ করে অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় আর্থিক ক্ষতি সাধন করা হয়েছে। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করা হয়েছে।

একেএস/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর