মানবতাবিরোধী অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগে তদন্ত সাপেক্ষে আরও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) প্রসিকিউশন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
বর্তমানে এই অভিযোগে তিনজন সাংবাদিক কারাগারে রয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বাংলাদেশের কিছু সাংবাদিক বিতর্কিত ভূমিকায় ছিলেন, যারা একটা ফ্যাসিস্ট সরকারকে বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠনে নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন। শুধু তাই নয়, জুলাই আন্দোলন চলাকালেও তাদের নানান উসকানিমূলক বক্তব্য ছিল এবং এই অপরাধ সংগঠনে এক ধরনের 'অ্যাবেটমেন্ট' (সহযোগিতা) ছিল।
তিনি জানান, অভিযুক্ত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জমা পড়েছে এবং ট্রাইব্যুনালের ইনভেস্টিগেশন সেল তা তদন্ত করছে।
তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আমিনুল ইসলাম বলেন, তদন্তের অংশ হিসেবে আপাতত তিনজন সাংবাদিক কারাগারে আছেন। এর মধ্যে দুজনকে শাপলা চত্বরের মামলায় আগেই গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে ওই দুজনসহ আরও একজনকে আমরা ‘শোন অ্যারেস্ট’ দেখিয়েছি এবং তাদের আটক রাখা হয়েছে।
তালিকায় আর কতজন সাংবাদিক রয়েছেন তা এই মুহূর্তে প্রকাশ না করে তিনি বলেন, যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যান্য সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যদি মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রাথমিক উপাদান পাওয়া যায় এবং রিপোর্ট আসে, তবে আমরা ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) দিয়ে ট্রাইব্যুনালে বিচারের ব্যবস্থা করব।
গত ২৪ আগস্ট, জুলাই আন্দোলন চলাকালে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে প্ররোচনার অভিযোগে তিন সাংবাদিককে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
তারা হলেন— একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু, একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক বিশেষ প্রতিনিধি ও উপস্থাপক ফারজানা রূপা এবং ভোরের কাগজ সম্পাদক ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত।
এর আগে ২০২৬ সালের ১৪ মে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রূপা ও বাবুকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল। তারা ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনার মামলায়ও গ্রেফতার রয়েছেন।
২০২৪ সালের ২১ অগাস্ট ফ্রান্স যাওয়ার সময় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফারজানা রূপা ও তার স্বামী সাংবাদিক শাকিল আহমেদকে আটক করা হয়। পরে উত্তরা পূর্ব থানার একটি হত্যা মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল।
অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ভোরে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা শ্যামল দত্ত ও মোজাম্মেল বাবুকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
এদিকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা এবং গ্রেফতারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সংগঠন।
গত ১৮ আগস্ট কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপার বিরুদ্ধে আনা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়। নিউইয়র্কভিত্তিক সংগঠনটি সাংবাদিকতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা বন্ধ করারও তাগিদ দেয়।
এছাড়া গত ১৫ জুলাই অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, আর্টিকেল ১৯, সিভিকাস, সিপিজে এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এক যৌথ বিবৃতিতে ফারজানা রূপা ও মোজাম্মেল বাবুর বিরুদ্ধে আইসিটির তদন্ত প্রত্যাহার করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়।
মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) শাপলা চত্বরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
আরএনবি/এআরএম




