৫০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় সাময়িকভাবে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তৃতীয় পর্যায়ের মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করেছে পিএসসি। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এ ভাইভা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রধান কার্যালয় শেরেবাংলা নগরে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) পিএসসি সচিবালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) মাসুমা আফরীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তৃতীয় পর্যায়ে মোট ২ হাজার ৫৩৫ জন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। এর মধ্যে সাধারণ ক্যাডারের অবশিষ্ট ৪৩৫ জন, সাধারণ এবং কারিগরি বা পেশাগত উভয় ক্যাডারের ১ হাজার ৫১৫ জন এবং শুধু কারিগরি বা পেশাগত ক্যাডারের ৫৮৫ জন প্রার্থী রয়েছেন। নির্ধারিত তারিখে সংশ্লিষ্ট রোল নম্বরের প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।
আগামী ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ ক্যাডারের প্রার্থীদের ভাইভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন ১৯৫ জন করে মোট ৩৯০ জন প্রার্থী এতে অংশ নেবেন। ১৫ সেপ্টেম্বর সাধারণ ক্যাডারের ৪৫ জন এবং সাধারণ ও কারিগরি বা পেশাগত উভয় ক্যাডারের ১৫০ জনের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে।
এরপর ১৬, ১৭, ২০, ২১, ২২, ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর প্রতিদিন ১৯৫ জন করে সাধারণ ও কারিগরি বা পেশাগত উভয় ক্যাডারের প্রার্থীর ভাইভা অনুষ্ঠিত হবে। শেষ ধাপে ২৭, ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর প্রতিদিন ১৯৫ জন করে শুধু কারিগরি বা পেশাগত ক্যাডারের প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে।
পিএসসি জানিয়েছে, শুধু লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার যোগ্যতা নিশ্চিত হবে না। প্রার্থীদের নির্ধারিত ‘বিপিএসসি ফরম-১ (আবেদনকারীর কপি)’সহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
এ জন্য পিএসসির ওয়েবসাইট থেকে ফরমটি সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের দুই সেট সত্যায়িত কপি প্রস্তুত করতে হবে। মৌখিক পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে সংশ্লিষ্ট বোর্ডে এসব কাগজপত্র জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে সব মূল সনদ বোর্ডে প্রদর্শন করতে হবে। ফরম-১ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা হবে এবং তাকে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হবে না।
ভাইভা বোর্ডে প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত এবং তিন মাসের মধ্যে তোলা তিন কপি ছবি জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে সব শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল বা সাময়িক সনদের সত্যায়িত কপি দিতে হবে। বয়স প্রমাণের জন্য এসএসসি বা সমমানের সনদের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে। বয়স প্রমাণে অ্যাফিডেভিট গ্রহণযোগ্য নয়। ‘ও’ বা ‘এ’ লেভেলের প্রার্থীদের জন্মতারিখসংবলিত প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে।
চার বছর মেয়াদি স্নাতক ডিগ্রির সনদে মেয়াদ উল্লেখ না থাকলে বিভাগীয় প্রধান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বা রেজিস্ট্রারের প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে। অন্যথায় ওই ডিগ্রি তিন বছর মেয়াদি স্নাতক হিসেবে গণ্য হবে। বিদেশ থেকে অর্জিত ডিগ্রির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ইকুইভ্যালেন্স সনদের সত্যায়িত কপি দিতে হবে। ডিগ্রি সনদে শ্রেণিবিন্যাস বা জিপিএ উল্লেখ না থাকলে মার্কশিট বা নম্বরপত্র জমা দিতে হবে।
চিকিৎসকদের বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) এবং পশুচিকিৎসকদের ভেটেরিনারি কাউন্সিলের রেজিস্ট্রেশন সনদ জমা দিতে হবে। অবতীর্ণ হিসেবে আবেদন করা প্রার্থীদের ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে সব লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার প্রমাণপত্র ও পাস করার প্রত্যয়নপত্র দিতে হবে। এ ছাড়া ওজন, উচ্চতা ও বুকের মাপসংবলিত রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের প্রত্যয়নপত্রও জমা দিতে হবে।
সরকারি টিসিবি প্রভাষক পদের প্রার্থীদের বি.এড বা এম.এড সনদ জমা দিতে হবে। চাকরিরত প্রার্থীদের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র দিতে হবে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রার্থীদের জেলা প্রশাসকের সনদ, প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের সুবর্ণ নাগরিক কার্ড বা সমাজসেবা অফিসের সনদ এবং তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের সিভিল সার্জনের সনদ জমা দিতে হবে।
এ ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি, স্থায়ী ঠিকানার সমর্থনে জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সনদ জমা দিতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা বা বীরাঙ্গনার সন্তানদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি বিধি অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ইস্যুকৃত সনদ দিতে হবে।
প্রার্থীদের পিএসসির ওয়েবসাইট থেকে প্রাক্-চাকরি বৃত্তান্ত যাচাই ফরম বা পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম ডাউনলোড করে তিন কপি পূরণ ও স্বাক্ষর করে ভাইভা বোর্ডে জমা দিতে হবে।
মৌখিক পরীক্ষার আগে প্রার্থীদের অতিরিক্ত তথ্যসংবলিত ‘বিপিএসসি ফরম-৩’ অনলাইনে বাংলায় পূরণ করে জমা দিতে হবে। পিএসসি বা টেলিটকের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফরমটি পূরণ করে এর দুই কপি প্রিন্ট নিয়ে ভাইভা বোর্ডে জমা দিতে হবে।
এ ছাড়া সব সনদের স্ক্যান কপি নির্ধারিত গুগল ফরমে আপলোড করতে হবে। পিএসসি জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র সঠিকভাবে আপলোড না করলে ভাইভা গ্রহণে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
পিএসসি আরও জানিয়েছে, কোনো প্রার্থীর ঠিকানায় ডাকযোগে সাক্ষাৎকারপত্র পাঠানো হবে না। প্রার্থীদের কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে নিজ দায়িত্বে সাক্ষাৎকারপত্র ডাউনলোড করতে হবে। সাক্ষাৎকারপত্রের নির্ধারিত স্থানে স্বহস্তে রোল নম্বর ও তারিখ লিখে তা ভাইভা বোর্ডে নিয়ে যেতে হবে।
নির্ধারিত তারিখে কোনো প্রার্থী উপস্থিত না হলে তাকে পরবর্তীতে আর মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।
মৌখিক পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের তদবির বা অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা না করার জন্যও প্রার্থীদের সতর্ক করেছে পিএসসি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যেকোনো ধরনের অসদুপায় বা অনৈতিক তদবির প্রার্থীর অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে।
এম/এআরএম




