গুলিস্তানের ব্যস্ত সড়ক। চারপাশে মানুষের ভিড়, যানবাহনের চাপ, দোকানপাট আর রাজনৈতিক কর্মসূচির ব্যস্ততা। দীর্ঘদিন ধরে জায়গাটি বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ নামে পরিচিত ছিল। কিন্তু কয়েক দশক আগে এই একই সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা নামফলকে লেখা ছিল অন্য একটি নাম ‘জিন্নাহ অ্যাভিনিউ’।
পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর নামে রাখা সেই নাম স্বাধীনতার পর টেকেনি। বাংলাদেশের জন্মের পর বদলে যায় সড়কের পরিচয়; নাম হয় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ। আর ২০২৫ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই নামও পরিবর্তন হয়ে সড়কটির নতুন নাম রাখা হয় ‘শহীদ আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউ’।
পাকিস্তান আমলে নাম ছিল জিন্নাহ অ্যাভিনিউ
ঢাকার কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকার বিকাশের সঙ্গে এই সড়কের ইতিহাস গভীরভাবে যুক্ত।
বাংলাপিডিয়ার ‘ঢাকা’ নিবন্ধে বলা হয়েছে, পাকিস্তান আমলে মতিঝিল এলাকাকে বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হয়। নবাবপুর রেলওয়ে ক্রসিং থেকে পুরানা পল্টন পর্যন্ত এলাকা ধীরে ধীরে শহরের গুরুত্বপূর্ণ উন্মুক্ত ও বাণিজ্যিক অঞ্চলে পরিণত হয়। এই এলাকার পশ্চিম পাশ দিয়ে প্রধান সড়ক হিসেবে নির্মিত হয় জিন্নাহ অ্যাভিনিউ। স্বাধীনতার পর সড়কটির নাম হয় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, যা ২০২৫ সালে পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘শহীদ আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউ’।
পঞ্চাশের দশকে এই সড়ক ধরে বিমানবন্দর পর্যন্ত দ্বিমুখী সড়কও নির্মাণ করা হয়েছিল বলে বাংলাপিডিয়ায় উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ জিন্নাহ অ্যাভিনিউ ঢাকার দ্রুত বিকশিত নতুন বাণিজ্যিক কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হয়ে উঠেছিল।
পাকিস্তান আমলে এই এলাকায় গড়ে ওঠে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এর কাছেই ছিল ঢাকা স্টেডিয়াম বর্তমান জাতীয় স্টেডিয়াম ঢাকা, বায়তুল মোকাররম, ডিআইটি ভবনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
জিন্নাহ অ্যাভিনিউ তখন কেমন ছিল?
আজকের ব্যস্ত গুলিস্তান ও বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের চেহারা দেখে কয়েক দশক আগের দৃশ্য কল্পনা করা কঠিন। ষাটের দশকে জিন্নাহ অ্যাভিনিউ ছিল ঢাকার অন্যতম অভিজাত বাণিজ্যিক ও বিনোদনকেন্দ্র। বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকান সেখানে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল।
বাংলাদেশের একটি ইংরেজি পত্রিকার স্মৃতিচারণমূলক প্রতিবেদনে ষাটের দশকের জিন্নাহ অ্যাভিনিউয়ের কধংনধয, খধ ঝধহর, ঈযঁ ঈযরহ ঈযড়,ি ঝবিবঃ ঐবধাবহ ও ঝধষরসধনধফ ঐড়ঃবষ-এর মতো প্রতিষ্ঠানের উল্লেখ রয়েছে।
সড়কটির পরিচয় তখন শুধু প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক ছিল না; এটি ঢাকার নগরজীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনোদন সংস্কৃতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
রাজনীতির মঞ্চে জিন্নাহ অ্যাভিনিউ
পূর্ব পাকিস্তানে তখন স্বায়ত্তশাসনের দাবি, ছয় দফা, ছাত্র আন্দোলন এবং পাকিস্তানি সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন তীব্র হচ্ছে। ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাবেশের স্থানগুলো রাজনৈতিক আন্দোলনের কেন্দ্র হয়ে উঠছিল। জিন্নাহ অ্যাভিনিউও সেই রাজনৈতিক বাস্তবতার বাইরে ছিল না।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতিতে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা আরও শক্তিশালী হয়। আর ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের পর পাকিস্তানের রাষ্ট্রকাঠামো নিয়ে সংকট চরমে পৌঁছায়। এরপর আসে ১৯৭১।
১৯৭১: নামের পাশাপাশি বদলে যাচ্ছিল শহরের পরিচয়
১৯৭১ সালের মার্চে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার ঘোষণা পূর্ব বাংলার মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করে। ঢাকার রাস্তায় তখন পাকিস্তানি রাষ্ট্রের প্রতীক ও নামের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু হয়। বিভিন্ন স্থাপনা ও সড়কের পরিচয়ও বদলে যেতে থাকে।
ঐতিহাসিক বিভিন্ন বর্ণনায় পাওয়া যায়, ১৯৭১ সালের মার্চের উত্তাল সময়ে জিন্নাহ অ্যাভিনিউয়ের পরিবর্তে ‘বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ’ নামটি ব্যবহারের প্রচলন শুরু হয়।
আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাধীনতার আগে জিন্নাহ অ্যাভিনিউ নামটি ছিল; স্বাধীনতার পর রাজধানীর বিভিন্ন সড়কের নাম পরিবর্তনের ধারায় এটি বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ হয়।
নামটি ঠিক কোন তারিখে আনুষ্ঠানিক সরকারি সিদ্ধান্তে পরিবর্তিত হয়েছিল—এ বিষয়ে সহজলভ্য নির্ভরযোগ্য সূত্রে একক, স্পষ্ট তারিখ পাওয়া যায় না। বরং একাধিক ঐতিহাসিক বর্ণনায় মার্চ ১৯৭১-এর আন্দোলনের সময় থেকেই ‘বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ’ নামটি ব্যবহারের কথা পাওয়া যায়।
কেন জিন্নাহর নাম বাদ গেল?
মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ছিলেন পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম গভর্নর-জেনারেল। ১৯৪৮ সালে ঢাকায় এসে তিনি উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার অবস্থান ঘোষণা করেছিলেন। এই অবস্থানের বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলায় তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে ভাষা আন্দোলনের রাজনৈতিক পটভূমির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম নেয়। ফলে পাকিস্তানি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা ব্যক্তিত্বের নামে থাকা সড়কের নাম স্বাধীন বাংলাদেশের নতুন জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকেনি। এই প্রেক্ষাপটেই জিন্নাহ অ্যাভিনিউ থেকে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ নামের পরিবর্তনকে দেখা হয়।
ঐতিহাসিকভাবে বিষয়টি আরও বিস্তৃত একটি পরিবর্তনের অংশ ছিল। স্বাধীনতার পর ঢাকার বিভিন্ন স্থাপনা ও সড়ক থেকে পাকিস্তান আমলের রাজনৈতিক প্রতীক সরিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন ও জাতীয় নেতাদের স্মৃতি যুক্ত করা হয়। জিন্নাহ অ্যাভিনিউ থেকে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ সেই ধারার অন্যতম দৃশ্যমান উদাহরণ।
‘বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ’ নামটি কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল?
নাম পরিবর্তনের পর সড়কটির সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক পরিচয় সরাসরি যুক্ত হয়ে যায়। এরপর কয়েক দশক ধরে এই সড়ক শুধু রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ হিসেবেই নয়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত হয়ে ওঠে।
এই সড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানা ছিল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়। সমসাময়িক প্রতিবেদনে সড়কটিকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের অবস্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফলে সময়ের সঙ্গে ‘বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ’ নামটি শুধু একটি রাস্তার নাম থাকেনি; এটি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত হয়ে যায়।
২১ আগস্ট ২০০৪: আরেকটি রক্তাক্ত অধ্যায়ের সাক্ষী
এই অ্যাভিনিউয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাগুলোর একটি হলো ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা। সেদিন আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা হয়। এতে দলটির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ বহু মানুষ নিহত হন এবং শত শত মানুষ আহত হন। আওয়ামী লীগের দাবি, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা।
সড়কটির নাম তখন শুধু বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বহন করছিল না; এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায় দেশের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক হামলার স্মৃতিও।
বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের আরেক পরিচয়—গুলিস্তান
একটি মজার বিষয় হলো, ‘বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ’ নামটি সরকারি সড়কের পরিচয় হলেও পুরো এলাকাটি সাধারণ মানুষের কাছে ‘গুলিস্তান’ নামে বেশি পরিচিত।
২০২৬ সালের একটি বিশদ প্রতিবেদনে একটি পত্রিকা জানিয়েছে, ১৯৫৩ সালে গুলিস্তান সিনেমা হল প্রতিষ্ঠার পর সেটিকে কেন্দ্র করে আশপাশের এলাকার পরিচয় ‘গুলিস্তান’ হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। অথচ সরকারি নথিতে এলাকাটি মূলত বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ নামে পরিচিত ছিল; তার আগের নাম ছিল জিন্নাহ অ্যাভিনিউ।
একটি পত্রিকার পুরোনো প্রতিবেদনে একইভাবে বলা হয়েছে, গুলিস্তান সিনেমা হলের নাম থেকেই এলাকাটির নাম ‘গুলিস্তান’ হয়ে যায়। এখানে আবারও দেখা যায়, একই জায়গার সরকারি নাম ও মানুষের মুখের নাম আলাদা হয়ে যেতে পারে।
২০২৫: আবার বদলে গেল নাম, ‘শহীদ আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউ’
এরপর আসে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু-পরিবারের নামে থাকা বিভিন্ন সড়ক, স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানের নাম পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এই ধারাবাহিকতায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের নামও পরিবর্তন করে। ২০২৫ সালের ২০ মার্চ স্থানীয় সরকার বিভাগের অনুমোদনের পর ডিএসসিসি বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউসহ একাধিক সড়ক, ভবন ও স্থাপনার নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করে। ২৫ মার্চ ডিএসসিসির পক্ষ থেকে বিষয়টি জানানো হয়। নতুন নামকরণ করা হয় ‘শহীদ আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউ’
কেন আবরার ফাহাদের নামে?
আবরার ফাহাদ ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী। ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগ তাকে পিটিয়ে হত্যা করে। তার মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদ হয়।
২০২৫ সালে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের নাম পরিবর্তন করে আবরারের নামে রাখার সিদ্ধান্ত আসে একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে।
ডিএসসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, সিটি করপোরেশনের নামকরণ-সংক্রান্ত কমিটি প্রস্তাব দেয়, তা বোর্ড সভায় অনুমোদিত হয় এবং পরে স্থানীয় সরকার বিভাগের অনুমোদনের মাধ্যমে নাম পরিবর্তন চূড়ান্ত হয়।
একটি সড়ক, তিনটি রাজনৈতিক সময়
এই নাম পরিবর্তনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো প্রতিটি নাম বাংলাদেশের একটি আলাদা রাজনৈতিক সময়কে ধারণ করে। জিন্নাহ অ্যাভিনিউ ছিল পাকিস্তান রাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রতীক। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ হয়ে ওঠে স্বাধীন বাংলাদেশ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের প্রতীক। আর শহীদ আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউ নামটি এসেছে ২০২৪-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায়।
নামফলক বদলায়, স্মৃতি থেকে যায়
আজ যে সড়কটি শহীদ আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউ নামে পরিচিত, সেখানে হাঁটলে হয়তো নতুন প্রজন্মের অনেকেই জানে না এই পথ একসময় জিন্নাহ অ্যাভিনিউ নামে পরিচিত ছিল। আর যারা বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ নামের সঙ্গে পরিচিত হয়ে বড় হয়েছেন, তাদের কাছে ‘জিন্নাহ অ্যাভিনিউ’ হয়তো পুরনো ঢাকার ইতিহাসের একটি অধ্যায়। কিন্তু ইতিহাসের দৃষ্টিতে তিনটি নামই গুরুত্বপূর্ণ।
জিন্নাহ অ্যাভিনিউ মনে করিয়ে দেয় পাকিস্তান আমলের ঢাকা। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ মনে করিয়ে দেয় স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের নতুন জাতীয় পরিচয়। শহীদ আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউ মনে করিয়ে দেয় সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক পরিবর্তন।
পাকিস্তান সৃষ্টির পর জিন্নাহর নামে যে সড়কের পরিচয় তৈরি হয়েছিল, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর সেটিই হয়ে যায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ। প্রায় পাঁচ দশক ধরে এই নাম রাজধানীর রাজনৈতিক মানচিত্রে একটি বিশেষ অবস্থান ধরে রাখে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, রাজনৈতিক সমাবেশ এবং ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার মতো ঘটনাও এই নামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়।
তারপর ২০২৫ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই নামও বদলে যায়। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন সড়ক ও স্থাপনার নাম পুনর্বিবেচনার ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের নামও পরিবর্তন করে শহীদ আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউ রাখা হয়।
জিন্নাহর পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ, আর বঙ্গবন্ধু থেকে আবরার ফাহাদ গুলিস্তানের এই সড়কের নামফলকে বদলে গেছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সময়ের ছাপ।
এম/এএইচ




