নতুন জাতীয় বেতন স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের মোবাইল ভাতার পরিধি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পঞ্চম গ্রেড পর্যন্ত কর্মচারীরা এ সুবিধা পেলেও নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারীই মোবাইল ভাতা পাবেন। দাফতরিক কাজে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়ায় যোগাযোগ ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে এই সুবিধার আওতা সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন জাতীয় বেতন স্কেল অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সরকারি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মোবাইল ভাতার আওতা বাড়ানোর বিষয়টি জানানো হয়।
বর্তমানে সরকারি চাকরিতে গ্রেডভিত্তিক নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে মোবাইল ভাতা দেওয়া হয়। নতুন বেতন স্কেল কার্যকর হলে সেই সীমাবদ্ধতা আর থাকবে না। ফলে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারী থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ গ্রেডের কর্মকর্তারাও এই ভাতার আওতায় আসবেন।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারি দাফতরিক কার্যক্রমের বড় একটি অংশ এখন ডিজিটাল যোগাযোগনির্ভর। মোবাইল ফোন, ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন ডিজিটাল যোগাযোগের ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে সব গ্রেডের কর্মচারীকে মোবাইল ভাতার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন বেতন স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের জন্য আরও কিছু সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য প্রথমবারের মতো প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত রয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতি সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ ছাড়া নতুন বেতন কাঠামোয় বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডের নির্ধারিত মূল বেতন এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে।
নতুন বেতন স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর হবে। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও মূল্যস্ফীতির বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চলতি ২০২৬-২৭ এবং আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।
বিশেষ করে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন স্কেল বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ১ জুলাই ২০২৭-এর মধ্যে মূল বেতন মোট তিন ধাপে বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। আর বিভিন্ন ভাতা ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে একযোগে কার্যকর হবে। সেই হিসাবে নতুন করে মোবাইল ভাতার সুবিধাও ওই সময় থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন। এতে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় হবে আনুমানিক এক লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।
সরকারের মতে, নতুন বেতন স্কেল সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও কর্মোদ্দীপনা বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষ, গতিশীল ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে।
এমআর/এফএ





