সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

আজ মন্ত্রিসভায় উঠতে পারে নতুন পে-স্কেলের খসড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম

শেয়ার করুন:

আজ মন্ত্রিসভায় উঠতে পারে নতুন পে-স্কেলের খসড়া
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে সোমবার।  পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামোর মূল বেতন কার্যকর করার কথা রয়েছে। তবে একসঙ্গে পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করে ধাপে ধাপে তা কার্যকর করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে গঠিত সচিব কমিটি নতুন পে-স্কেল দুই অর্থবছরে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছিল। ওই প্রস্তাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে নতুন মূল বেতন এবং পরবর্তী অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ভাতা কার্যকর করার কথা ছিল।

তবে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা চূড়ান্ত খসড়ায় এ পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। 

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকেই নতুন মূল বেতন কার্যকর হবে। তবে এর অর্থ পরিশোধ ধাপে ধাপে করা হবে। নতুন পে-স্কেল কীভাবে ও কোন সময়সূচিতে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আজ বিকেল সাড়ে ৫টায় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে নতুন পে-স্কেল অনুমোদন পেলে পরবর্তী ধাপে প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রজ্ঞাপন জারি করতে এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

সূত্র আরও জানায়, আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিকেলের মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকের আগে ওই বৈঠকেও নতুন পে-স্কেল নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সুপারিশ চূড়ান্ত করতে চলতি বছরের ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া চূড়ান্ত করে এই কমিটি।

জানা গেছে, নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশের সঙ্গে সচিব কমিটির চূড়ান্ত খসড়ায় বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। কমিশন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। তবে নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটি ১০০ শতাংশের বেশি বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করেনি।

অষ্টম জাতীয় বেতন কমিশন গঠনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানকে চেয়ারম্যান করে গঠিত কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।

নবম বেতন কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করে। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

কমিশনের হিসাবে, প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর পেছনে বর্তমানে বছরে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে।

বিপুল অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে অর্থের সংস্থান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। গত অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় এ বরাদ্দ ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি।

গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

তখন তিনি বলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতন কাঠামোয় বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এমআর/এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর