রোববার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

ফোনকলে সেবা, সাড়া ফেলেছে ঢাকার ‘হ্যালো ডিসি’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম

শেয়ার করুন:

ফোনকলে সেবা, সাড়া ফেলেছে ঢাকার ‘হ্যালো ডিসি’

জেলা প্রশাসনের সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চালু করা ‘হ্যালো ডিসি’ উদ্যোগে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। চালুর পর গত এক মাসের সেবা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এ প্ল্যাটফর্মে মোট ৯৪৪টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৭৪২টি আবেদনের সেবা সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ফোনকল ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ১ হাজার ৩৪৯ জন সেবা গ্রহণ করেছেন।

তবে তথ্যের ঘাটতি এবং আবেদনের ত্রুটির কারণে ১১৭টি আবেদন বাতিল করা হয়েছে। অ্যাপ ও ফোনকল মিলিয়ে ‘হ্যালো ডিসি’তে এই এক মাসে মোট ২০৯১ জন সেবা পেয়েছেন।

রোববার (২৩ আগস্ট) ঢাকা জেলা প্রশাসন থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ৩৯টি আবেদন বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন এবং ৪৬টি আবেদন পেন্ডিং রয়েছে। এছাড়া ১১৭টি আবেদন বাতিল হয়েছে।

শুধু ‘হ্যালো ডিসি’ প্ল্যাটফর্মেই নয়, সরাসরি ফোনকল ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও বিপুলসংখ্যক মানুষ সেবা নিয়েছেন। এসব মাধ্যমে ১ হাজার ৩৪৯ জন সেবা গ্রহণ করেছেন।

জানা গেছে, জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ, প্রতিবন্ধী ও দুস্থদের সহায়তা, প্রবাসীদের গণশুনানি, খাদ্য ভেজাল, অবৈধ খাসজমি সংক্রান্তসহ নানাবিধ সেবা পেয়েছেন সেবাপ্রত্যাশীরা। এছাড়া বিভিন্ন তথ্য ও অভিযোগ দিয়ে জেলা প্রশাসনকে পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করছেন সাধারণ মানুষ।

এদিকে, ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপের মাধ্যমে ঢাকার দোহারে একযোগে ১৪টি সেলাই মেশিন বিতরণ, ধামরাইয়ে ১৫ জন দুস্থকে আর্থিক সহায়তা, বেদে পল্লীতে সহায়তা, কেরানীগঞ্জে পরিচ্ছন্নতা অভিযানসহ প্রতিনিয়ত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছে ঢাকা জেলা প্রশাসন।

এ বিষয়ে ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, নাগরিকদের দ্রুত ও সহজে সরকারি সেবা নিশ্চিত করতেই ‘হ্যালো ডিসি’ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগ, আবেদন ও সেবার বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

তিনি বলেন, আমরা চাই, মানুষ যেন ভোগান্তি ছাড়াই সেবা পায়। যে সেবা একটা ফোনকলে দেওয়া সম্ভব, সে সেবা পেতে কেন একজন বৃদ্ধ মানুষকে তিন ঘণ্টার যানজটে বসে থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আসতে হবে? আমরা নাগরিকদের সেই ভোগান্তির কথা মাথায় রেখেই সেবাকে আরও সহজ করতে চেষ্টা করেছি।

নাগরিকদের তথ্য সংরক্ষণের বিষয়ে অ্যাপটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জেপিটেকের চেয়ারম্যান মুর্তজা পলাশ বলেন, নাগরিকদের কাছ থেকে নেওয়া তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তাকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। ‘হ্যালো ডিসি’ প্ল্যাটফর্মে কোনো নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য অননুমোদিতভাবে ব্যবহার বা প্রকাশের সুযোগ নেই। সেবার প্রয়োজনেই কেবল নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তথ্য ব্যবহার করা হয় এবং তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রযুক্তির মাধ্যমে সরকারি সেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি নাগরিকদের আস্থা ধরে রাখাও আমাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তাই তথ্যের গোপনীয়তা, নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই পুরো সিস্টেমটি তৈরি ও পরিচালনা করা হচ্ছে।

বিইউ/এএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর