দেশের বিভিন্ন রুটের অবৈধ স্লিপার বাসের বৈধতা দাবিতে রাজধানী বনানীতে সড়ক অবরোধ করেছে বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস মালিক সমিতির নেতাকর্মীরা।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর সোয়া ১টার দিকে তারা বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) সদর দফতরের সামনের সড়ক বন্ধ করে দেন।
এ ঘটনায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন উত্তরা-এয়ারপোর্ট থেকে বনানীগামী এবং মগবাজার, নাবিস্কো, তেজগাঁও ও ফার্মগেট থেকে বনানীর দিকে যাওয়া গণপরিবহনগুলো। ভোগান্তিতে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে যাতায়াতকারীরাও।
তার আগে স্লিপার বাস মালিক সমিতির নেতারা সাংবাদিকদের কাছে তাদের দাবিগুলো জানান।
দাবিগুলো হলো— আদালতের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগে স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে কোনো বলপ্রয়োগ বা নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করা, এ খাতে বিনিয়োগ ও শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সুরক্ষা করা, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্লিপার বাস পরিচালনায় সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন, ফিটনেস ও রুট পারমিট সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত সমাধান, আইনি প্রক্রিয়া চলাকালে অযৌক্তিক জরিমানা, তল্লাশি ও গাড়ি আটক বন্ধ এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ’র সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে স্লিপার বাসকে একটি কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় আনা।
সমিতির নেতারা জানান, স্লিপার বাস খাতে শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। এছাড়া চালক, হেলপার, সুপারভাইজার ও মেকানিকসহ হাজার হাজার শ্রমিকের জীবিকা এ খাতের ওপর নির্ভরশীল। কোনো বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া বাস চলাচল বন্ধ করা হলে মালিক ও শ্রমিকরা আর্থিক সংকটে পড়বেন।
তারা আরও বলেন, স্লিপার বাস চলাচল নিয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন নং-১২৯০/২০২৫ বিচারাধীন রয়েছে। তাই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগে স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ বা নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার আহ্বান জানাচ্ছি।
স্লিপার বাস বন্ধ না করে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে এর কারিগরি ও নিরাপত্তাবিষয়ক কাঠামো নির্ধারণের জন্য বিআরটিএ’র কাছে নীতিমালা প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছে মালিক সমিতি। একইসঙ্গে ফিটনেস ও রুট পারমিট সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত সমাধানের দাবিও জানিয়েছে।
সমিতির নেতারা বলেন, তারা আইন ও সরকারি নিয়মকানুন মেনে চলতে প্রস্তুত। তবে আধুনিক এ পরিবহনসেবা বন্ধ না করে সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরির দাবি তাদের।
নিজেদের দাবি জানিয়ে বিআরটিএ’তে একটি স্মারকলিপিও জমা দিয়েছে স্লিপার বাস মালিক সমিতি।
এদিকে সার্বিক ঘটনায় উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা নিরব ভূমিকা পালন করছেন বলে অভিযোগ। যানজট নিরসন বা সমস্যা সমাধানে তাদের ভেতর কোনো চেষ্টা নেই বলেই পথচারী ও পণপরিবহনের চালক ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ডিএমপির ট্রাফিক মহাখালী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার ইশরাকুল কবীর বলেন, ‘বিস্তারিত তথ্য আমরা জানার চেষ্টা করছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন। সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।’
এএইচ




