রোববার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অবস্থান ঘোষণা স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫১ পিএম

শেয়ার করুন:

দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অবস্থান ঘোষণা স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর
প্রথম কর্মদিবসেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম কর্মদিবসেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, বিগত ১৭ বছরে মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্ত দফতর-সংস্থাগুলোতে দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে নিজ দফতরে স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।

ড. আবদুল মঈন খান বলেন, বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তবে দুর্নীতির প্রশ্নে কোনো আপস হবে না। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তাই তার মূল লক্ষ্য হবে দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন পূরণ, সরকারি সেবা তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত করে এর হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা।

মন্ত্রী বলেন, দেশে প্রায় ৫০টি মন্ত্রণালয় থাকলেও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় ব্যতিক্রম। কারণ এই মন্ত্রণালয়গুলো সরাসরি জনগণের সঙ্গে কাজ করে এবং জনগণের দৈনন্দিন সেবার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সম্পৃক্ত। স্থানীয় সরকারব্যবস্থা কার্যকর হলে রাষ্ট্রের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনাও আরও শক্তিশালী হবে।

ড. মঈন খান বলেন, সরকার যতই ক্ষমতাশালী হোক, সেই ক্ষমতার প্রকৃত উৎস জনগণ। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ যে দায়িত্ব অর্পণ করে, তা জনগণের কল্যাণেই ব্যবহার করতে হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও সেই দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানাই।

তিনি আরও বলেন, দেশের সচ্ছল মানুষ অনেক প্রয়োজন নিজেরাই পূরণ করতে পারলেও দরিদ্র মানুষ সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। তাই তাদের অধিকার ও প্রয়োজন নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। বাংলাদেশে এখনো বিপুলসংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী অতীতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিচারকদের স্বাধীনভাবে রায় লেখার সুযোগ ছিল না, মন্ত্রণালয় থেকে রায় লিখে দেওয়ার সংস্কৃতি চালু হয়েছিল। বর্তমান সরকার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে স্বচ্ছ, জবাবদিহিতামূলক ও কার্যকর জনসেবামুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চায়।

এএইচ/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর