রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের জোরালো পদক্ষেপ চায় বাংলাদেশ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫ আগস্ট ২০২২, ০১:১৭ এএম
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের জোরালো পদক্ষেপ চায় বাংলাদেশ

চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে দেশটির ভূমিকা আরও জোরালো করার আহ্বান জানাবে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই শনিবার ঢাকা সফরে আসছেন। পরদিন রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বসবেন তিনি। এর আগে সকাল সাড়ে ৭টায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গেও বৈঠক করবেন তিনি। 

শাহরিয়ার আলম বলেন, 'রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের ভূমিকা আরও জোরালো করার আহ্বান জানাবে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে আসিয়ান মন্ত্রীদের বৈঠকে মিয়ানমারের প্রতি একটি শক্ত বার্তা দেয়া হয়েছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমরা অবশ্যই জোরালো বার্তা দেবো। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বেইজিংকে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাব।'

হতে পারে ৫ থেকে ৭ চুক্তি 

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ওয়াং ই-র ঢাকা সফরে একাধিক সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে চুক্তি নবায়ন, নতুন সহযোগিতা, বিশেষ করে দুর্যোগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ক পাঁচ থেকে সাতটি চুক্তি হতে পারে।’

চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্ত্রীর সফরে ভবিষ্যৎ দিনগুলোতে দু'দেশের সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অনেক গভীর বলেও দাবি করেন তিনি।

বৃহৎ কোনো প্রকল্পে চীন থেকে ঋণ নয়

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্যোগ মোকাবিলায় চুক্তি হতে পারে, যার মধ্যে হার্ডওয়ার ও সফটওয়ার দুটিই থাকবে। এর বাইরে সংস্কৃতি বিনিময় নিয়ে একটি চুক্তি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে একটি শিক্ষা সংক্রান্ত বিনিময় চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে। দুর্যোগ সংক্রান্ত চুক্তিটি একটি প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন করা হবে, যেখানে চীনের অর্থায়ন থাকবে। সে হিসেবে দুর্যোগ প্রকল্পে চীনের ঋণ নেয়া হতে পারে। তবে বৃহৎ কোনো প্রকল্পে আমরা চীনের ঋণ নিচ্ছি না।’

এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘চীনের একাধিক বৈশ্বিক উদ্যোগ আছে এবং ওই উদ্যোগে বাংলাদেশসহ অন্যান্য বন্ধু দেশকে পাশে চায় বেইজিং। চীন তাদের বৈশ্বিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করতে চাইলে তখন এসব নিয়েও কথা হবে।’

ইন্দো-প্যাসিফিক ভিশন বা অন্য জোটের বিষয়ে চীনের অবস্থান জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অন্য বলয়ের সঙ্গে কী করবো সেটি আমাদের বিষয়। আশা করি অন্য কোনো দেশ এ বিষয়ে আমাদের কোনো পরামর্শ দেবে না। তবে চীন বাংলাদেশের বন্ধুরাষ্ট্র। তাদের অনেক পরিকল্পনার সঙ্গে বাংলাদেশ জড়িত।’

বিইউ/এআইএ