যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ এবং নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্যাম্পাস পরিবেশ গড়ে তুলতে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি)তে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। জাতিসংঘের নারী উন্নয়ন সংস্থার সহযোগিতায় এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে বাংলাদেশের নির্বাচিত পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাস্তবায়নাধীন একটি প্রকল্পের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার করা এবং সহিংসতার পেছনে থাকা ক্ষতিকর সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা।
এ লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাসে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ শীর্ষক একটি সূচনা মিটিং অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক, যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ কমিটির সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজন অংশ নেন। সভার মাধ্যমে প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা এবং এআইইউবির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়।
সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা রহমান। তিনি প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান বিশ্বে বিভ্রান্তিকর তথ্য, অনলাইন হয়রানি এবং অফলাইন সহিংসতার ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ক্রমেই উদ্বেগজনক ও বহুমাত্রিক রূপ ধারণ করছে। অনলাইন ও অফলাইন-উভয় ক্ষেত্রেই এ ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তাহমিনা রহমান আরও বলেন, ইউএন উইমেনের বাস্তবায়ন সহযোগী হিসেবে আসক বাংলাদেশের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এর লক্ষ্য হলো যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মীদের জন্য আরও নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা।
বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিশ্ব বর্তমানে দ্রুত পরিবর্তনশীল ও অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। চ্যালেঞ্জের ধরন ও মাত্রা পরিবর্তিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন পরিস্থিতি কার্যকরভাবে মোকাবিলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও কার্যপদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে।
ইউএন উইমেন-এর ইউনিট ম্যানেজার শ্রাবণা দত্ত সভায় সমগ্র বিদ্যালয়ভিত্তিক পদ্ধতি-এর মাধ্যমে কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো সম্প্রদায়কে সম্পৃক্ত করে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও মোকাবিলা করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজনের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় অধ্যাপক ফারহীন হাসান আশা প্রকাশ করেন, প্রকল্পটি বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ের চিন্তাভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গিতে অর্থবহ পরিবর্তন আনতে এবং পারস্পরিক সম্মান, মর্যাদা ও অন্তর্ভুক্তির ভিত্তিতে আরও ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, কার্যকর অভিযোগ ও প্রতিকারব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পর্যায়ের অংশীজনকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টির বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার বিষয়ে মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন।
এই সভার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ, নিরাপদ ক্যাম্পাস পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এমআইকে/এএস




