ঘড়ির কাঁটায় তখন ৫টা ২০ মিনিট। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দীন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার জন্য মাইক হাতে নিলেন। সংসদ কক্ষজুড়ে পিনপতন নীরবতা। মুদ্রিত ব্যালট সংখ্যা, বৈধ ভোট, ব্যবহৃত ভোটের সংখ্যা ইত্যাদি বলার পর তিনি প্রথমেই বিরোধী দলের প্রার্থী কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রমের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ঘোষণা করেন। তিনি পেয়েছেন ৮৮ ভোট। এরপর বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রাপ্ত ভোট ২৫৫ উল্লেখ করে তাকে রাষ্ট্রপতি পদে বিজয়ী ঘোষণা করেন।
মুহুর্মুহু করতালি আর উচ্ছ্বাসে সংসদ অধিবেশন কক্ষ উদ্বেলিত হয়ে ওঠে। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উঠে দাঁড়িয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান। বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যান ট্রেজারি বেঞ্চের দিকে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সামনে এগিয়ে দেন। এরপর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ডা. শফিকুর রহমান করমর্দন করেন। একে অপরকে দীর্ঘ আলিঙ্গন করেন।

বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সাইফুল আলম খান মিলন প্রমুখ নতুন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে করমর্দন ও কোলাকুলি করেন। হাউজে তুমুল করতালি দিয়ে গণতন্ত্রের নতুন এই অভিযাত্রাকে অভিনন্দিত করেন উপস্থিত সংসদ সদস্যরা।
>> আরও পড়ুন
মির্জা ফখরুল পেলেন ২৫৫ ভোট, অলি আহমদ ৮৮
একটি অসহিষ্ণু, ভঙ্গুর সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার আড়ালে যে সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির বন্ধন তৈরি করা যায়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তা যেন নতুন করে ফুটে উঠল।
শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের সরকার নতুন এক যুগে প্রবেশ করবে বলে আশা করা যায়।
/এএস




