বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন সংসদ সদস্যরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ আগস্ট ২০২৬, ০২:১৮ পিএম

শেয়ার করুন:

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন সংসদ সদস্যরা
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে আজ। জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টার পর ভোটগ্রহণ শুরু হয়। চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। এই তিন ঘণ্টায় ৩৪৮ জন সংসদ সদস্য ভোট দেবেন।

শুরুতে প্রধান নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার নিয়ম জানিয়ে দেন। এরপর ভোটগ্রহণ শুরু হয়।

প্রথমে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ভোট দেন। তারা ভোট দিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানসহ সংসদ সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ প্রধানমন্ত্রী ও প্রার্থীর সঙ্গেও করমর্দন করেন।

দুপুর ২টা ১০ মিনিটে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী নিজের আসন থেকে উঠে পাশে বসা বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সঙ্গে নিয়ে ভোট বাক্সের কাছে যান। ঘড়ির কাঁটা যখন ২টা ১১ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ব্যালট পেপার নিয়ে ভোট বাক্সের কাছে যান এবং নিজের ব্যালট পেপার বাক্সে ফেলেন।

এ সময় সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। এরপর ভোট বাক্সে ব্যালট পেপার ফেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে মির্জা ফখরুল উপস্থিত সংসদ সদস্যদের সঙ্গে করমর্দন করেন। তিনি বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের কাছে গিয়েও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

দুপুর ২টা ১২ মিনিটে বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান ভোট দেন। এরপর সংসদ সদস্যরা একে একে ভোট দিচ্ছেন।

এবার রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ। সংসদের চট্টগ্রাম-৪ আসনটি শূন্য থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। অসুস্থতার কারণে ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস দেশের বাইরে থাকায় তিনি রাষ্ট্রপতি পদে ভোট দিতে পারবেন না।

নির্বাচনে বিজয়ী হতে প্রয়োজন হবে ১৭৫ ভোট। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের দলীয় সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার সুযোগ না থাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিজয় প্রায় নিশ্চিত। তিনি নির্বাচিত হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হবেন।

সংসদ সদস্য হওয়ায় রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেও ভোট দিতে পারবেন। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তার সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হবে। একই সঙ্গে মন্ত্রী পদ থেকেও তার পদত্যাগ হবে।

অন্যদিকে সংসদ সদস্য না হওয়ায় ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদ ভোট দিতে পারবেন না।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সংসদ কক্ষে চারটি ব্যালট বাক্স রাখা হয়েছে। সংসদ সদস্যরা প্রকাশ্যে ভোট দেবেন। ব্যালটে ভোটারের নাম এবং তিনি কোন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, তা উল্লেখ থাকবে।

ভোটগ্রহণের আগে সংসদ কক্ষে স্পিকারের আসনের সামনে নির্ধারিত স্থানে বসেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনাররা, নির্বাচন কমিশন সচিব ও সংসদ সচিবালয়ের সচিব। সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে বসে ভোট দিচ্ছেন। নির্বাচনে সহায়তার জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে ২০ জন কর্মকর্তার তালিকাও সংসদ সচিবালয়ে পাঠানো হয়।

১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম রাষ্ট্রপতি পদে ভোটাভুটি হচ্ছে। এর আগে প্রায় সব নির্বাচনেই ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। সর্বশেষ ১৯৯১ সালে ভোটে বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাস রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

এবারের নির্বাচনে বিএনপি জোটের প্রায় ২৫০ জন সংসদ সদস্য ভোটার রয়েছেন। দলীয় সংসদ সদস্য না হওয়ায় আট স্বতন্ত্র এমপি দুই প্রার্থীর যেকোনো একজনকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এরই মধ্যে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে স্বতন্ত্র এমপিদের কাছে ভোট চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে অসুস্থতার কারণে দেশের বাইরে থাকায় ভোট দিতে পারবেন না বলে স্পিকারকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

ভোটের জন্য সংসদ সদস্যদের দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে সংসদ কক্ষে প্রবেশ করতে হবে। ভোট দেওয়ার সময় সংসদ সচিবালয়ের সরবরাহ করা পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। নিজ আসনে বসার পর সহায়তাকারী কর্মকর্তার কাছ থেকে নাম ও বিভক্তি নম্বর মুদ্রিত ব্যালট সংগ্রহ করে নির্ধারিত নিয়মে ভোট দিতে হবে।

গত ২৪ জুলাই দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। এরপর ৬ আগস্ট শূন্য পদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

এমআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর